ইদ্রিস আলীর ফাঁসির রায়ে শরীয়তপুরে আনন্দের বন্যা


প্রকাশিত: ০৯:২২ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ মামলায় রাজাকার মৌলভী ইদ্রিস আলী সরদারের ফাঁসির রায় শুনে শরীয়তপুরবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা শুরু হয়েছে। শরীয়তপুর জেলার মানুষ যুদ্ধাপরাধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

১৯৭১ সালে শরীয়তপুর জেলার কাশাভোগ, চিতলিয়া এলাকায় গণহত্যা, অপহরণ, লুট, ধর্ষণ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা ও নির্যাতনের অপরাধে দীর্ঘদিন পরে হলেও রাজাকার মৌলভী ইদ্রিস আলীর ফাঁসি হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।

ইদ্রিস আলীর নির্যাতনের শিকার মনু দাস বলেন, আমার বাবা-মা, পিসি ও অন্যদের হত্যাকারী ইদ্রিস মৌলভীর ফাঁসি হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। আমার ওপর নির্যাতনের বিচার পেয়েছি।

ইদ্রিস আলীর কর্তৃক ধর্ষণের স্বীকার অঞ্জলী রানী বালা ও যোগমায়া মনের আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক মেয়েকে আটকে রেখে ইদ্রিস মৌলভী, সোলাইমান মৌলভীসহ অনেকে ধর্ষণ করেছে। বিকৃতভাবে আমাদের ওপর নির্যাতন করেছে। আজ নরপিশাচের ফাঁসির রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

মামলার বাদী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার বলেন, আজ একাত্তরের চিহ্নিত রাজাকার যুদ্ধাপরাধী মৌলভী ইদ্রিস আলীর ফাঁসির রায় ঘোষিত হওয়ায় আমি ট্রাইব্যুনাল ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। রাজাকারের ফাঁসির রায়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও শরীয়তপুরবাসী দীর্ঘদিন পরে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল।

এদিকে পলাতক রাজাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার মামুন বলেন, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনি গতিতে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করবো।

ছগির হোসেন/এফএ/জেআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।