পদ্মার মূল সেতুর ৩৮ ভাগ কাজ সম্পন্ন
নানা চড়াই উৎরাই আর দীর্ঘ অপেক্ষার পর পদ্মার বুকে দৃশ্যমাণ হচ্ছে স্বপ্নের সেতু। পদ্মাসেতু প্রকল্পের ৪০ ভাগ মূল সেতুর ৩৮ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সালে পদ্মাসেতু দিয়ে চলাচল করবে যানবাহন ও ট্রেন। এমন কর্মপরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছে সবকিছু। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ।
পদ্মার বিশাল কর্মযজ্ঞ দক্ষিণ পশ্চিমের ২১ জেলার কয়েক কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণের। শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে নির্মিত হতে যাচ্ছে ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন কেন্দ্র, হাইটিক পার্ক, জাহাজ নির্মাণের কারখানা, সোলার প্লান্টসহ বড় বড় সব প্রকল্প। এরই মধ্যে প্রকল্পের ৪০ ভাগ কাজ আর মূল সেতুর ৩৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মিত হয়েছে কনেস্ট্রাকশন ইয়ার, সার্ভিস এড়িয়া, পুনরবাসন প্রকল্প।
জাজিরা প্রান্তে টোল প্লাজা নির্মাণ কাজও শেষের পথে। সেতুর কাজ ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুপাশের সংযোগ সড়ক প্রায় প্রস্তুত। সংযোগ সড়কের জন্য কাওড়াকান্দি ঘাট সরিয়ে আনা হয়েছে কাঠাল বাড়িতে। যার ফলে ফেরি পথে কমে এসেছে প্রায় ৫ কিলোমিটার।
জাজিরা প্রান্তের পদ্মাসেতুর মূল সংযোগ সড়ক ও কাঠাল বাড়ি ঘাট থেকে যোগ করতে নতুন ৬ কিলোমিটার সার্বিক সড়কের কাজ চলছে পূরোদমে। এর ফলে ফেরি থেকে নেমে যানবাহনগুলো যেতে পারবে দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে। পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়ক খুলে দেয়া হবে চলতি ডিসেম্বর মাসে।
পদ্মাসেতুর ১ বছর পরও রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা কারণে অব্যাহত রাখতে হবে ফেরি যোগাযোগ। আর সেতু চালুর ২ বছর আগেই সংযোগ সড়ক খুলে দেয়া হলে আগে ভাগেই অর্থনীতির গতিসঞ্চার হবে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের।
সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্ণেল মনিরুল ইসলাম জানান, পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজ ৪০ ভাগ আর মূল সেতুর কাজ ৩৮ ভাগ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সার্ভিস এরিয়া টোল কাজ গত জুলাই মাসে শেষ হয়েছে। জাজিরা ও মাওয়ার দুই প্রান্তেই দুটি পরিপূর্ণ পুলিশ স্টেশন বা থানা কমপ্লেক্স নির্মাণ হচ্ছে। এর বাকি কাজ শেষ হবে ২০১৭ সালের মধ্যে।
তিনি আরো জানান, জাজিরা প্রান্তের সংযোগ সড়ক আমরা ডিসেম্বর মাসে খুলে দিতে পারবো। তাতে করে দুবছর আগেই দেশের মানুষ এ পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্পের অন্তত একটা সুফল পেতে শুরু করবে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, পদ্মা বহুমূখী সেতু চালু হলে শরীয়তপুরবাসীর ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। শরীয়তপুরের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে। শরীয়তপুর হবে একটি শিল্প পার্ক।
ছগির হোসেন/এফএ/এমএস