আজ বৃহত্তর লাকসাম মুক্ত দিবস
আজ ১১ ডিসেম্বর সাবেক বৃহত্তর লাকসাম বর্তমান (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট ও সদর দক্ষিণের একাংশ) মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে লাকসাম হাইস্কুল মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা নজির আহমেদ ভুঁইয়ার প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিবাহিনীর প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পাকবাহিনী লাকসাম থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিলো এই দিনে।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৫ এপ্রিল পাকিস্তানি সেনারা প্রথমে লাকসাম জংশন ও দৌলতগঞ্জ বাজার দখলে নিয়ে লাকসাম সিগারেট ফ্যাক্টরিতে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে। আর এখান থেকেই চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনীসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা নিয়ন্ত্রণ করতো।
৮ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর বিভিন্ন কমান্ড লাকসামে অবস্থানরত দখলকার পাক হানাদার বাহিনীর উপর আক্রমণ শুরু করে। পরবর্তীতে মিত্র বাহিনী লাকসাম জংশন ও সিগারেট ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন অবস্থানের উপর বিমান হামলা চালিয়ে পাকসেনাদের তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে।
দুই দিন ধরে প্রচণ্ড যুদ্ধের পর পাক বাহিনী লাকসাম থেকে পশ্চিম দিকে মুদাফরগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরের দিকে পালাতে থাকে। পালানোর সময় মিত্র বাহিনী চুনাতী নামক গ্রামে এবং মুক্তিবাহিনী শ্রীয়াং ও বাংলাইশে পাক বাহিনীকে মুখোমুখি আক্রমণ করে।
এ সকল আক্রমণে পাকবাহিনীর অসংখ্য প্রাণহানিসহ অনেক পাক হানাদার সেনা বন্দি হয়। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর ভোরে যৌথবাহিনী লাকসামকে শত্রু মুক্ত বলে ঘোষণা করে।
এদিকে লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট মুক্ত দিবস উপলক্ষে স্থানীয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতি বছরের ন্যায় আজ ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটিকে স্মরণ করছে।
কামাল উদ্দিন/এফএ/এমএস