মোবাইল চুরির সন্দেহে শিশু শিক্ষার্থীকে বেঁধে পেটালেন শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৩:২৫ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় মোবাইল চুরির সন্দেহে মো. ওমর ফারুক (১০) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে কক্ষে বন্দি করে পিটিয়ে জখম করেছে মাদরাসার এক শিক্ষক। আহত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে।

রোববার বিকেলে ওই ঘটনায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার অসুস্থ শিক্ষার্থী ওমর ফারুককে দেখতে হাসপাতালে যান ও তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। একইসঙ্গে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে শাহরাস্তি পুলিশকে নির্দেশ দেন।

ওই শিশু শিক্ষার্থীর পরিবার ও এলাকাবাসী জাগো নিউজকে জানান, বিগত দুই মাস আগে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপির বেরনাইয়া গ্রামের মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে মো. ওমর ফারুককে একই গ্রামের লশকরি হাজী হাফিজিয়া মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ওই মাদরাসার প্রধান মাওলানা ফয়জুল্লাহ্ এর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি মাদরাসা থেকে চুরি যায়।

ওই সময় তিনি তার মুঠোফোনটি অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে ওমর ফারুককে সন্দেহ করেন। ওমর ফারুক ফোনটি দেখেনি বলে জানালে এতে মাদরাসার প্রধান মাওলানা ফয়জুল্লাহ্ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মাদরাসার শ্রেণি কক্ষে বন্দি করে রাখে। তাতেও তার ফোনটি উদ্ধার না হওয়ায় তিনি চটে গিয়ে ওমর ফারুককে হাত-পা বেঁধে দফায় দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন।

তারপরও মুঠোফোনের সন্ধান না মেলায় আবারও তাকে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করেন পরে ওই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওমর ফারুককে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরদিন শুক্রবার তার অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় শাহ্ শরীফ জেনারেল ও ডায়াবেটিকস হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার একদিন চিকিৎসা শেষে উন্নতি না হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুণরায় ভর্তি করা হয়।

শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি চলমান মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
 
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানিক লাল মজুমদার জাগো নিউজকে জানায়, বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১১নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার চিকিৎসার সকল ওষুধপত্র হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। তার শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে।

ইকরাম চৌধুরী/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :