সুন্দরগঞ্জে ব্রিজ পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ


প্রকাশিত: ০৯:৫৫ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যায় ধসে যাওয়া রামডাকুয়া ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে বিজ্র না হওয়ায় উপজেলা সদরসহ বিভাগীয় শহর রংপুরে চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ২০ গ্রামের হাজারও মানুষ।

২০০৯ সালে মানুষের যোগাযোগের সুবিধার্থে সাবেক এমপি ডা. কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খান নিজ অর্থায়নে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিস্তার শাখা নদী রামডাকুয়ার উপর ব্রিজটি নির্মাণ করেন। কিন্তু গত বছর বন্যায় ব্রিজটি ধসে গেলে ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী হাজারও মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

রামডাকুয়া গ্রামের আনিছার আলী, মোনারুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিন জানান, স্বাধীনতার পর থেকে তিস্তার শাখা নদী রামডাকুয়ায় ব্রিজ নির্মাণে দাবি জানিয়ে আসছিলো এলাকাবাসী। কিন্তু সেখানে কোন ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছিলো না। পরে ২০০০ সালে সাবেক এমপি ডা. কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খান নিজ অর্থায়নে একটি ব্রিজ নির্মাণ করেন। ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন বেলকা, হরিপুর, তারাপুর ও পাশের উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, বজরাসহ চলাচল করতো ২০ গ্রামের হাজার হাজারও।

এ ছাড়া খোর্দ্দারচর, চরখোর্দ্দা, বেকরির চর, পঞ্চানন্দ চর, শ্যামরায়ের পাঠ, বজরা চর, চর চরিতা বাড়ি, টাবুর চর, রামডাকুয়ার চর, পাড়া সাদুয়ার চর, মাদারি পাড়ার চর, রিয়াজ মিয়ার চর, রহমতের চর, মহিষবান্ধির চরসহ ২০টি চরাঞ্চলের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ ওই পথে যাতায়াত করতো।

স্থানীয়রা জানায়, গত বছর প্রবল বন্যার কারণে হঠাৎ করে ব্রিজটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচলে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছে। বিজ্র নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার হাজার হাজার জনসাধরণ সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরসহ বিভাগীয় শহর রংপুরে যোগাযোগ করতে বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্রিজটি ধ্বসে পড়ার পর থেকে পৌর প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন পরিদর্শন করলেও দীর্ঘ এক বছরেও ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে এলাকার লোকজন প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, রামডাকুয়া ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের অর্থ পৌরসভার ফান্ডে নেই। তবে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর জানান, রামডাকুয়া ব্রিজটির পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের চাহিদাপত্র নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ব্রিজটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ করা হবে।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।