চাঁদার টাকায় প্রশাসনের বিজয় দিবস পালনের অভিযোগ


প্রকাশিত: ০২:৩৪ এএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৬

অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে অলিখত বৈধতা দিয়ে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এসব ইটভাটার মালিকদের দেওয়া টাকায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে পুরো জেলা জুড়ে।

জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১১টি ইটভাটা ও ৫-৬টি পাজা রয়েছে। সবগুলো ইটভাটাতেই কাঠ পোড়ানো হয়। কাঠ পোড়ানো অবৈধ জানা সত্ত্বেও নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদা ইটভাটার মালিকদের দণ্ড বা জরিমানা না করে, উল্টো তাদের দেওয়া চাঁদার টাকায় বিজয় দিবসের উৎসব করেছেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনকে ১১টি ইটভাটার মধ্যে কোনোটির মালিক দশ হাজার, আবার কোনোটির মালিক পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। রেহাই পাননি পাজার মালিকরাও। তারা দিয়েছেন কোনোটিতে এক হাজার টাকা, আবার কেউ দিয়েছেন ৫০০ টাকা করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার মালিকরা অভিযোগ করেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিজয় দিবসে চাঁদা দেওয়ার জন্য ইটভাটা মালিকদের খবর পাঠানো হয়। প্রতিটি ইটভাটায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি বড় ইটভাটায় দশ হাজার টাকা চাঁদা বাধ্যতামূলক করা হয়।

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ টাকাগুলো খরচ করা হয়। বিজয় দিবসের উৎসব পালনে প্রশাসনের বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার ঘটনায় জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।  

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নলছিটি পৌর এলাকায় দেলোয়ার কমিশনারের দুইটি, মহিদুল ইসলামের একটি, মৃধাদের একটি, মগড় ইউনিয়নের সুজাবাদে দুইটি, দপদপিয়া ইউনিয়নে তিনটি, কুশংগল ইউনিয়নে কবির জোমাদ্দারের একটি এবং ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ঢাপর গ্রামে একটি ইটভাটা রয়েছে।

এছাড়াও পাজা রয়েছে রানাপাশা ইউনিয়নে তিনটি, তেতুলবাড়িয়া একটি এবং সরই গ্রামে একটি। ইটভাটা ও পাজা থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়া হয়েছে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদা চাঁদার টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান পালন করেন। বিজয় উৎসব পালনে প্রশাসনের বরাদ্দ আর ইটভাটা মালিকদের দেওয়া চাঁদার টাকায় জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও কোনো রকমের দায়সারা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নলছিটিতে বিজয় দিবস পালিত হয়েছে।

অনেকেই ধারণা করছেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার টাকা পুরোটাই আত্মসাত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদার সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে (০১৭১৬২২০৬০৪) যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন পরে কথা হবে বলে ফোন কেটে দেন।  

আতিকুর রহমান/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।