আজ রাতেই শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের দৌড়


প্রকাশিত: ০৪:৫৯ এএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬

আজ (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১২টা পার হলেই থেমে যাবে প্রচারণা। ১২ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়নে দৌড় থামবে কক্সবাজারের ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৮১ প্রার্থীর। তবে প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনে মর্যাদার আসন জিইয়ে রাখতে আজ সারাদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে শেষ দৌঁড় দিচ্ছেন তারা।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র মতে, কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৫ ওয়ার্ডের মাঝে ১২, ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এ ওয়ার্ডগুলোতে সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে না। তেমনিভাবে সংরক্ষিত নারী আসন ৫ নাম্বারেও বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সদস্যা নির্বাচিত হওয়ায় সেখানেও ভোট যুদ্ধে নেই নারী প্রার্থীদের মধ্যে।

বাকি ১২ ওয়ার্ডে ৬৪ সাধারণ সদস্য প্রার্থী ও সংরক্ষিত ৪ ওয়ার্ডে ১৬ প্রার্থীর অনুকূলে প্রতীক বরাদ্দ হয়। আট উপজেলা, চার পৌরসভা ও জেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাঝে তালিকাভূক্ত হওয়া এক হাজার তিন জন ভোটার ২৮ ডিসেম্বর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন।  

তথ্যমতে, কক্সবাজারে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী (আনারস) ও জেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় নেতা এ এইচ সালাহউদ্দিন মাহমুদ (মোটর সাইকেল) নির্বাচনে লড়ছেন।

নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপির সমর্থনে কোনো প্রার্থী না থাকায় সদস্য পদে একে অপরের প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সংরক্ষিত পাঁচটির মধ্যে চারটি ও সাধারণ ওয়র্ডের ১৫টির মধ্যে ১২টি ওয়ার্ডে দল সমর্থিত বলে ১৬ জন সদস্য প্রার্থীর প্রতিদ্বন্ধী হিসেবে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন দলের আরও ৪১ জন প্রার্থী।

তাই চেয়ারম্যান প্রার্থীদের চেয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টায় মাঠ সরগরম করেছে সদস্য প্রার্থীরা। অনেক ওয়ার্ডে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে টাকাও দেয়া হয়েছে। জনশ্রুতি রয়েছে, একেকটি ভোটের ১০ হাজার টাকা থেকে লাখ টাকাও দাম উঠেছে। প্রার্থীরা যে যার মতো করে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকার অংক শুনিয়ে ওয়াদাবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

ভোটাররা জানান, প্রতীক পাওয়ার পর থেকে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ঘরে ঘরে গেছেন প্রার্থীরা। দলের কর্মী-সমর্থক বলে পরিচয় দেয়া প্রার্থীরা একে অপরের বিষোদাগার করলেও এসব থেকে দূরে ছিলেন স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে থাকা সাত প্রার্থী। তারা নিজেদের যোগ্য মনে হলে রায় দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন নিজ ওয়ার্ডের ভোটরদের।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, প্রচারণা শুরুর দিন থেকে নির্বাচনী আচরণ বিধি মানতে প্রার্থীদের বার বার সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও আচরণ বিধি ভঙ্গ করায় বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

টাকা দিয়ে ভোট কেনার বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, এবিষয়টি উড়োভাবে কানে এসেছে। কিন্তু কোনো প্রার্থী লিখিত অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।
 
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এ নির্বাচনে যারা ভোট দেবেন তারা সবাই একেকটা এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। সচেতন এসব ব্যক্তি কাকে ভোট দিলে আগামী দিনে তার এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ বেশি পাওয়া যাবে এসব বিষয় মাথায় রাখবেন নিশ্চয়। দলীয় সমর্থনটা শুধুমাত্র প্রশাসকদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান। সদস্যরা যে যার মতোই নির্বাচন করছেন। তাই সবার সহযোগিতায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার প্রতি তাগাদা দেন তিনি।
 
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, তফসিল অনুসারে আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।