খাগড়াছড়িতে সংবাদপত্র এজেন্টকে উড়ো চিঠি
খাগড়াছড়িতে একটি আঞ্চলিক পত্রিকাসহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্থানীয় সংবাদপত্র এজেন্ট রতন কুমার দেকে উড়ো চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালের দিকে দোকান খুলেই স্টাফরা খামে ভরা চারটি চিঠি পান। তবে খামে বা চিঠিতে প্রেরকের নাম-ঠিকানা নেই।
এদিকে উড়ো চিঠি দেয়ার ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে ইতোমধ্যে স্ট্যাটাসের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকেও। সাংবাদিককে মারধর ও প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনার পর সংবাদপত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে উড়ো চিঠি দেওয়ার ঘটনায় জেলার সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আরো বেড়েছে।
উড়ো চিঠিতে লেখা রয়েছে “শুভেচ্ছা নিবেন। ইদানিং দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর, ইত্তেফাক, কালেরকন্ঠ, সুপ্রভাতসহ বেশ কিছু জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা এলাকার সুনামধন্য জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মিথ্যাচার করছে। জনবিরোধী এসব পত্রিকা খাগড়াছড়িতে আনা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হলো। পত্র প্রাপ্তির পর যদি এসব পত্রিকা খাগড়াছড়িতে আসে এর দায়-দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে”। ইতি-আপনার শুভাকাঙ্খি, খাগড়াছড়ি সদর।
চিঠি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিভাবে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উড়ো চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন উল্লেখ করে সংবাদপত্র এজেন্ট রতন কুমার দে বেলেন, পুলিশ সুপারের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। 
অভিযোগে কে বা কারা এমন উড়ো চিঠি দিয়েছে তা সুননির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত (ওসি) তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে কয়েকটি সংবাদপত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে উড়ো চিঠি দেয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়া লিখেছেন ‘তাহলে তো সংবাদপত্রের পরাজয় ও বিদায় বেলা আর সন্ত্রাসীদের বিজয় মেলা’।
খাগড়াছড়ির সাংবাদিক প্রদীপ চৌধুরী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘খাগড়াছড়িতে বেশ কয়েকটি পত্রিকা বিক্রির ওপর নিষেধজ্ঞা দিয়ে উড়ো চিঠি। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বনামধন্য সংবাপত্রসেবী রতন কুমার দে’ এইমাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিশ্চয় সামনে টেলিভিশন বন্ধের খবরও আসতে পারে’।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/জেআইএম