জেলা পরিষদ নির্বাচনেও এমপি বদির প্রভাব
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে জেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. খাইরুল আমিন।
মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যকর্মীদের নিকট তিনি সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অ্যাড. খাইরুল আমিন জানান, এমপি বদি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অধ্যাপক হুমায়ুন কবির চৌধুরীর পক্ষে (স্ত্রী বড় ভাই) ভোট দিতে ভোটারদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন। গোপনে ডেকে নিয়ে ভীতি প্রদর্শন করছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণে শঙ্কা প্রকাশ করে এ পর্যন্ত দুইবার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
এছাড়া তার ভোটকেন্দ্রটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েনের দাবিও করেন তিনি।
কিন্তু তার আবেদন-নিবেদন কোনোটাতেই ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ প্রকাশ করে ভোটের মাত্র ১দিন আগে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন অ্যাড. খাইরুল আমিন।
সাংবাদিকদের তিনি জানান, নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে স্থানীয় সাংসদ গত ২৩ ডিসেম্বর ১৪ নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিদের জন্য ইনানী সৈকতের পাঁচ তারকা হোটেল রয়েল টেউলিপ সী-পার্ল এ মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন। সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ুন কবির চৌধুরীর তালা মার্কায় রায় দিতে চাপ সৃষ্টি করেন।
গত ১০ ডিসেম্বর উখিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের মাঝে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা প্রকল্প বরাদ্দ দেয়ার সময় হুমায়ুন কবির চৌধুরীর জন্য ভোট দাবী করেছেন এমপি বদি। হুমায়ুন কবিরের পোলিং এজেন্টকে দেখিয়ে তার প্রতীক ‘তালা’ মার্কায় সীল মারার নির্দেশ দেন। যা নির্বাচন আচরণ বিধি সরাসরি লঙ্ঘন।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৯ ডিসেম্বর হলদিয়া পালং এর চেয়ারম্যানের বাড়িতে, ২০ ডিসেম্বর রাজা পালং চেয়ারম্যানের বাড়িতে, ২১ ডিসেম্বর পালংখালী চেয়ারম্যানের বাড়িতে এবং ২২ ডিসেম্বর রত্নাপালং চেয়ারম্যানের বাড়িতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ১২ জন মেম্বার ও মহিলা মেম্বারকে ডেকে সাংসদের দোহাই দিয়ে গোপনে ভোট না দিয়ে প্রকাশ্যে হুমায়ুন কবিরের তালা মার্কায় সীল মারার জন্য বলা হয়।
প্রকাশ্যে তালা মার্কায় ভোট দিতে না পারলে ভোট কেন্দ্রে না যেতেও হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরও কোনো ভোটার তালা মার্কায় ভোট না দিলে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মারধরের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে ভোটাররা আতঙ্ক ও শঙ্কায় রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. আলী হোসেন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রার্থীদের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরপরও কেউ নির্বাচন বর্জন করলে এতে প্রশাসনের করার কিছু নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাংসদ আবদুর রহমান বদির ব্যবহৃত দু’টি মুঠোফোনেই (৫:৩৮ মি.) কল করা হয়। একটি নাম্বার রিসিভ করা হলেও কথা বলেননি। আর অপর নম্বরটি রিসিভই করেননি।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম