বর্ষার আগেই নাকাল চিলমারীর জোড়গাছ হাট সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীর অন্যতম অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র জোড়গাছ হাটের প্রধান সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু সমান কাদা আর বড় বড় গর্তে জমে থাকা পানির কারণে ঐতিহ্যবাহী এই হাটে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব এলেও সড়কের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

সরেজমিনে জোড়গাছ হাটে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। হাটসংলগ্ন সড়কে বড় বড় গর্তে কাদা জমে পথ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে হাঁটু সমান কাদা থাকায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে চরম বিঘ্ন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কোটি টাকার বেশি ইজারাকৃত এই গুরুত্বপূর্ণ হাটের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন পড়ে আছে। বারবার সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা তাদের।

হাটে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, সপ্তাহে দুইদিন ‘রোববার ও বুধবার’ এখানে বড় হাট বসে। সামনে কোরবানির হাটকে ঘিরে বেচাকেনা আরও বাড়বে। কিন্তু সড়কের এই দুর্দশা থাকলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

বর্ষার আগেই নাকাল চিলমারীর জোড়গাছ হাট সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান কৃষক মাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল হাটে আনতে গিয়ে কাদার মধ্যে পড়ে অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়, এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এভাবে চলতে থাকলে ক্রেতারাও হাটে আসা কমিয়ে দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম নোবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, সড়কের এমন করুণ অবস্থার কারণে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আঁশেক আঁকা জানান, সড়কটি উপজেলা এলজিইডির আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলি জুয়েল বলেন, জোড়গাছ হাটের দুইটি সড়কের প্রায় ১৫০ মিটার অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টি ইউএনও’র সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।