মনিকাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পরিবার


প্রকাশিত: ০৮:৫১ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬

মাত্র ৯ দিনের সংসার। এরই মাঝে স্বামী ও স্বজনদের নিকট প্রিয় মুখ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মনিকা রহমান। কিছুদিন আগে মহা আয়োজনে ঢাকার বংশালের একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে হয়েছিল মনিকার। স্বামী মামুনুর রশিদ একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন।

ওই নব দম্পতির ছিলো ঘর বাঁধার স্বপ্ন। কিন্তু হাতের মেহেদীর রঙ শেষ না হতেই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন ভেঙে গেল নব-দম্পতির। ঢাকা থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পদুয়া এলাকায় ট্রাকের সাথে ওই বাসের সংঘর্ষে নিহত হন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সি মনিকা। এতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, বিয়ের পর রাতে কক্সবাজারে মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছিলেন এ নবদম্পতি। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন দুজনেই। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নববধূকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মনিকার স্বামীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

Comilla

ওই দুর্ঘটনায় নিহত অপর দুই যাত্রী মেহেরপুরের রফিকুল ইসলাম (৩৫) ও চাঁদপুরের কচুয়ার বাসিন্দা সোহাগ (৩২)। মনিকার ছোট বোন অনিকা আক্তার জানান, গত ২১ ডিসেম্বর বংশালের একটি কমিউনিটি সেন্টারে মামুনুর রশিদের সঙ্গে মনিকার বিয়ে হয়। বংশাল থানার চানখারপুল লেনের ৫৭/২ নম্বর বাসার সাততলায় তারা থাকতেন। এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে তারা অবকাশে যাচ্ছিলেন।

মনিকার সহপাঠী সামিয়া জানান, ইংরেজী বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী মনিকা ব্যাচের সিআর (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) ছিল। ক্লাসের সবাইকে হাসি আনন্দে মাতিয়ে রাখার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল তার। ব্যাচের সবার খোঁজ-খবর রাখত সে। মনিকার এভাবে চলে যাওয়া কোনো ভাবেই মানতে পারছি না।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. ফরহাদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে ঘন কুয়াশার কারণে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।