মাটিরাঙ্গার রুমজা-দেলোয়ার পেলো উষ্ণতার ছোঁয়া
নব্বইয়ের কোটা পেরোনো রমুজা খাতুন আর একশর কোটা ছুঁই ছুঁই মো. দেলোয়ার হোসেন। দুজনই চোখে দেখেন না অনেক দিন ধরে। কারো সাহায্য ছাড়া ঘর থেকে বের হতেও পারেন না।
শনিবার মাঝ পৌষের কনকনে শীতের মধ্যরাতে তাদের ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো হয়ে হাজির হলেন পার্বত্য খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমান।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ের ঢালুতে ঘরে গিয়ে পরম মমতায় তাদের গায়ে জড়িয়ে দিলেন উষ্ণ কাপড়।
উষ্ণ কাপড় পেয়ে আবেগাপ্লুত রমুজা খাতুন আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে তার জন্য দোয়া করলেন। ‘আই খাইল্যা গরে কেন্নে থাই কেউ চায় না, আই কি পচি গেছি (আমি একা ঘরে কীভাবে থাকি কেউ দেখে না, আমি কি পচে গেছি) কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বললেন রমুজা খাতুন। একইভাবে নিজের অসহায়ত্বের কথা বললেন মো. দেলোয়ার হোসেন। এ দুই অন্ধের কষ্ট দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম মশিউর রহমান। 
দেশের হাজারো মানুষ যখন ভিড় জমিয়েছে সমুদ্র তীর, ড্যান্স ক্লাব, টিএসসি, শাহবাগ বা কোনো দামি রেস্টুরেন্টে ঠিক তখন মধ্যরাতে মাটিরাঙ্গার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার আন্তরিকতার ফলে বছরের শেষ দিনের মধ্যরাতে উষ্ণতার ছোঁয়া পেয়েছেন রমুজা-দেলোয়ারের মতো মাটিরাঙ্গা বাজারের ফুটপাতে পড়ে থাকা স্বজনহীন পঙ্গু মালেক।
পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পৌষের কনকনে শীত উপেক্ষা করে তিনি মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন হাটবাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায় এবং হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের গায়ে জাড়িয়ে দিয়েছেন উষ্ণ কাপড়। উষ্ণ কাপড় পেয়ে আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে তার জন্য দোয়া করেছেন অনেকেই।
রাত ১০টার দিকে গুইমারা বাজার ও এর আশেপাশে হতদরিদ্রদের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করেন বিএম মশিউর রহমান। এসময় তিনি রাস্তার ধারে ফুটপাতে পড়ে থাকা শীতার্ত মানুষের গায়ে শীতের মোটা কাপড় জড়িয়ে দিয়ে তাদের শীত নিবারণের চেষ্ঠা করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেমং মারমা ও গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এরপর রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত তিনি মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়া, পূর্ব কাজীপাড়া, নবীনগর এবং ২নং ওয়ার্ডের নতুনপাড়া, তাইয়াটিলা এলাকায় বিভিন্ন দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের মাঝে শীতের উষ্ণ কাপড় বিতরণ করেন।
পরে তিনি মাটিরাঙ্গা বাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে ফুটপাতে পড়ে থাকা সহায়-সম্বল আর গৃহহীন মানুষগুলোকে উষ্ণ কাপড়ে জড়িয়ে ধরেন। আকস্মিক উষ্ণ কাপড় পেয়ে যেন হাতে আকাশের চাঁদ পেয়েছে তারা। তাদের হাসিতে ফুটে ওঠে যেন আত্মতৃপ্তির ঢেকুর।
এসময় মধ্যরাতে শীতার্তদের মাঝে উষ্ণ কম্বল বিতরণকালে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণে এর চেয়ে ভালো উদ্যোগ আর কিছু হতে পারে না। সমাজের বিত্তবানদের উচিত এসব শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো। বিত্তবান আর সচেতন মহল একটি ভালো উদ্যোগই সমাজের হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হতে পারে। তারাও ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এআরএ/জেআইএম