রাঙা শীতে ঘরে ঘরে কুমড়া বড়ির উৎসব


প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৭

যশোরের বেনাপোল ও শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার গৃহবধূরা ডালের তৈরি বড়ি বানাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতকে স্বাগত জানিয়ে প্রত্যেকটি গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে কলাই আর চালকুমড়া দিয়ে বড়ি বানানোর মহোৎসব। সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তাদের বড়ি তৈরির রাঙা উৎসব।

প্রচণ্ড শীতের মধ্যে পাড়া মহল্লার গৃহিণীরা একত্রিত হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে তৈরি এ মজাদার খাবার তৈরিতে বেশ ব্যস্ত। ভোরে উঠে কেউ ছুটছেন ঢেঁকির কাছে, কেউ শীলপাটা, আবার কেউবা মাটির পাত্রে ঘোটনার কাছে। আবার অনেকে যাচ্ছেন বৈদ্যুতিক মেশিনের কাছে। সবার উদ্দেশ্য খাবার টেবিলের বাড়তি স্বাদের জন্য বড়ি তৈরির মূল উপাদান বানানো।

জানা যায়, গ্রাম বাংলার যতগুলো ঐতিহ্য প্রবহমান তার মধ্যে অন্যতম একটি চালকুমড়ার তৈরি বড়ি। শীত মৌসুম মানেই গ্রাম বাংলার মানুষের নতুন নতুন খাবার তৈরির মৌসুম। শীতের পিঠা মাঠাই খির পায়েশের পাশাপাশি চালকুমড়া আর ডালের তৈরি বড়িও একটি সুস্বাদু খাদ্য বলে পরিচিত।

BENAPOLE

শীতের দিনে গৃহিণীর রান্না করা প্রতিটি তরকারির সঙ্গে যদি বড়ি না থাকে তাহলে খাবার যেন অপূরণীয় থেকে যায়। সেই বড়ি বানানোর কাজে উপজেলার প্রতিটি গ্রামের পাশাপাশি শহরের গৃহবধূরা অনেক সজাগ।

বড়ি তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কালো কলাই অর্থাৎ ঠিকরি কলাই ও চাল-কুমড়া। কুমড়ার অবর্তমানে অনেকে মুলা অথবা পেঁপেকে ব্যবহার করেন। কলাই পাথরের যাতাই মাড়াই করে ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়।

এর সঙ্গে যোগ হয় পাকা চাল কুমড়া অথবা মুলা কিংবা পেঁপে। গৃহিণীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে চাল কুমড়ার ভেতর থেকে তার মুল উপাদান বের করেন। এরপর উভয় উপাদান মিশিয়ে ঢেঁকি বা যাতায় পিষে পেস্টের মতো একটি উপাদান তৈরি করেন। এই উপাদান তৈরিতে গ্রাম্য বধূদের খুব পরিশ্রম করতে হয়।

BENAPOLE

এক সময় বড়ির এ উপাদান তৈরি করতে কেবলমাত্র ঢেঁকি ব্যবহার করা হলেও বর্তমান ডিজিটাল যুগে বেশ পরির্বতন এসেছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি যখন বিলুপ্তির পথে তখন এর জায়গা দখল করে নিয়েছে ইঞ্জিনচালিত মেশিন।

বেনাপোলের নারানপুর গ্রামের গৃহবধূ জবেদা খাতুন জানান, শীত এলেই তাদের গ্রাম অঞ্চলের লোকজন বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পাড়ার অনেক পরিবার একত্রিত হয়ে তারা বড়ি বানান। ধনী-গরিব সবাই এ বড়ির প্রতি দুর্বল। কেননা বড়ি প্রতিটি তরকারিতে বাড়তি স্বাদ এনে দেয়। বড়ি ভেঙে পিঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাজি করলে এক চমৎকার খাবার তৈরি হয়। এছাড়া বড়ি দিয়ে রান্না করা বেগুন, লাউ, ফুলকপি, আলু ইত্যাদি তরকারির যেন স্বাদই আলাদা।

BENAPOLE

ছোট আঁচড়া গ্রামের রাহেলা খাতুন জানান, বড়ি হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য মাছ মাংসের সমান। প্রতি বছর শীত এলে এ শ্রেণির পরিবারে অন্য কিছু না হলেও বড়ি হতে হবে। কেননা তারা যে কোন মূল্যে শীতের পুরো সময়টা থেমে থেমে বড়ি তৈরি করেন।

শার্শার সামলাগাছি গ্রামের আয়েশা খাতুন জানান, তাদের তৈরি বড়ি শুধু এলাকার মানুষই খায় না। এসব বড়ি দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় যাচ্ছে। আর ডালের তৈরি এ বড়ি খেয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা।

মো. জামাল হোসেন/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।