বারবার নিজের আচরণ ব্যাখ্যা করা কীসের লক্ষণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কোনো সিদ্ধান্ত নিলেই যদি মনে হয় - আরও একটু বোঝাতে হবে, নাহলে মানুষ ভুল বুঝবে - তাহলে বিষয়টি শুধু স্বভাবের অংশ নাও হতে পারে। মনোবিজ্ঞান বলছে, বারবার নিজেকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা অনেক সময় মানসিক চাপ ও নার্ভাস সিস্টেমের অস্থিরতার ফল।

কেন বারবার ব্যাখ্যা করার তাগিদ আসে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন শরীর ও মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রেসে থাকে, তখন নার্ভাস সিস্টেম সারভাইভাল মোডে চলে যায়। এই অবস্থায় মস্তিষ্ক সব সময় অস্বীকৃতি, ভুল বোঝাবুঝি বা সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে থাকে।

বারবার নিজের আচরণ ব্যাখ্যা করা কীসের লক্ষণ?

ফলে মানুষ মনে করে, নিজেকে যত বেশি ব্যাখ্যা করা যাবে, তত নিরাপদ থাকা যাবে। এটি মূলত ফাইট অর ফ্লাইট প্রতিক্রিয়ার একটি আচরণগত রূপ।

এটি ব্যক্তিত্ব নয়, শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া

গবেষণায় দেখা গেছে, নার্ভাস সিস্টেম অস্থির থাকলে মস্তিষ্ক হুমকি শনাক্তকারী অংশকে বেশি সক্রিয় রাখে। তখন সাধারণ মতভেদও বিপদের মতো মনে হয়। এই কারণে অনেকেই নিজের আবেগ, সিদ্ধান্ত কিংবা সীমারেখা (বাউন্ডারি) নিয়ে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিতে থাকেন - কারণ শরীর মনে করে, বোঝাতে পারলেই নিরাপত্তা মিলবে।

সুস্থতার পথে কী বদলায়?

নার্ভাস সিস্টেম যখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়, তখন এই প্রবণতাও কমে আসে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পর্যায়ে—

>> মতভেদ আর হুমকি মনে হয় না

>> কম কথায় কথা বলা স্বাভাবিক লাগে

বারবার নিজের আচরণ ব্যাখ্যা করা কীসের লক্ষণ?

>> নীরবতা অস্বস্তিকর মনে হয় না

>> নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ে

এটি অহংকার থেকে নয়, বরং ভেতরের নিরাপত্তাবোধ থেকে আসে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেকে বদলানো নয়, নিজের শরীর ও মনের সংকেত বোঝা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, থেরাপি বা কাউন্সেলিং, ধীর শ্বাসপ্রশ্বাস, মাইন্ডফুলনেস, নিরাপদ ও সহায়ক সম্পর্ক ধীরে ধীরে নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করতে সাহায্য করে। সময় গেলে, বারবার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নিজে থেকেই কমে আসে।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন, জার্নাল অব ট্রমা অ্যান্ড স্ট্রেস ও পলিভেগাল থিওরি

এএমপি/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।