হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন রোকসানা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর দাবি করা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় মোছা. রোকসানা বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ রোকসানা বেগম গত একসপ্তাহ ধরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
রোকসানা বেগম সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের শান্তিরাম গ্রামের সুজা মিয়ার স্ত্রী ও একই ইউনিয়নের পাঁচগাছি শান্তিরাম গ্রামের স্কুলশিক্ষক আবদুল খালেকের মেয়ে। রোকসানার সংসারে চারবছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় রোকসনার বাবা আবদুল খালেক বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর থেকে সুজা মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।
আবদুল খালেক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের ২২ জানুয়ারি রোকসানা বেগমের সঙ্গে শান্তিরাম গ্রামের পল্লীচিকিৎসক ওয়াহেদ আলীর ছেলে সুজা মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুজা মিয়াকে পাঁচভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ তিন লাখ টাকা দেয়া হয়। এরপর সুজা মিয়া রোকসনার কাছে আরও যৌতুকের টাকা দাবি করে। যৌতুক না পেয়ে রোকসাকে প্রায়ই মারধর করতেন সাজু মিয়া।
গত ১ জানুয়ারি রোকসানাকে যৌতুক হিসেবে দুই লাখ টাকা আনতে চাপ দেন সুজা মিয়া। কিন্তু রোকসানা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাজু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে। এ সময় রোকসানার কাছে একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেয়ার চেষ্টা করে তারা।
একপর্যায়ে সুজা মিয়া, শ্বশুর ওয়াহেদ আলী, শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম ও দুইভাই আবদুর রউফ এবং সুরুজ মিয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে রোকসানাকে উপর্যুপরি আঘাত করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাজু ও তার পরিবারের লোকজনের মারপিট ও অস্ত্রের আঘাতে রোকসানা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর রোকসানাকে আটক রেখে গোপনে চিকিৎসা চালায় সাজু মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। পরে রোকসানার বাবা আবদুল খালেক খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা রোকসানা বেগম বলেন, দুই লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে আমাকে প্রায়ই মারধর করতো সাজু। ঘটনার দিন দুই লাখ টাকা চেয়ে সাজুর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। টাকা দিতে পারিনি বলে আমাকে মারপিট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। চিকিৎসা চললেও তার হাত ও শরীরের যন্ত্রণা কমেনি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম মন্ডল বলেন, মারপিটের কারণে রোকসানার ডান হাতে ক্ষত রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সুজা মিয়ার সঙ্গে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/আরআইপি