পোশাক শ্রমিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ


প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৭

সময় মতো বেতন না দেয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে মানিকগঞ্জে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখেন মুন্নু অ্যাটিয়ার লিমিটেডের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় রাস্তা থেকে সরাতে পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার গিলন্ড এলাকায় অবস্থিত মুন্নু অ্যাটিয়ার লিমিটেডে শ্রমিক অসন্তোষের এ ঘটনা ঘটে।

রেবা, লিজা ও মারুফ নামে কয়েকজন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক জানান, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে তাদের বেতন দেয়ার কথা। কিন্তু তা পরিশোধ করা হয় মাসের শেষ দিকে।

এছাড়া কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার সুলতান ও শামীম নানা অজুহাতে তাদের শারীরিক নির্যাতন করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এরই জেরে কারখানার সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তারা রাস্তায় বসে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে থাকেন।

Aricha

পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বিক্ষোভে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় পাশে দীর্ঘ সারিতে যানবাহন আটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু তা শুনে শ্রমিকরা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পোশাক শ্রমিকদের ওপরে লাঠিচার্জ করে। পরে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। শ্রমিকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও ফুটেজ থাকলেও বিষয়টি অস্বীকার করছে পুলিশ।

ঘিওর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তাদের হাতে কোনো লাঠি ছিল না। শ্রমিকদের দাবি -দাওয়ার বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রীতা জানান, তার কারখানায় শ্রমিকদের কোনো বেতন বকেয়া নেই। তৃতীয় কোনো পক্ষ গার্মেন্টস সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিকদের মাঠে নামিয়েছে।

বি.এম খোরশেদ/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।