ঝিনাইদহ এখন সোনা ও মাদক পাচারের নিরাপদ রুট !


প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ২২ মার্চ ২০১৫

ঝিনাইদহের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে সাম্প্রতিককালে দেদারসে সোনা ও মাদক পাচার হচ্ছে। চোরাকারবারীরা জেলার কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা মাদক ও সোনা পাচারের গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করছে।

আন্তদেশীয় সোনা চোরাকারবারীদের কাছে ঝিনাইদহ নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে ভারতে সোনা ও ফেনসিডিল পাচার হলেও উদ্ধারের চিত্র ব্যাপক হতাশাজনক। আবার দেখা গেছে উদ্ধারকৃত সোনা ও মাদকের সঠিক জব্দ তালিকা হচ্ছে না। গায়েব হয়ে যাচ্ছে আটকৃত মাদক। ধরা পড়ছেন না গডফাদাররা।

সীমান্তে প্রতিদিন বিজিবি সদস্যরা লাখ লাখ টাকার ইয়াবা, মদ ও ফেনসিডিল উদ্ধার করছে। তারপরও মাদকের ভয়াল থাবা কমছে না। ঝিনাইদহের বারবাজার ও কালীগঞ্জের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদকের এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

জানা গেছে, কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ গত ৪ ও ১০ মার্চ দু’দফা সোনার চালান আটক করে। এ সময় ধরা পড়ে তিন চোরাকারবারী। আটককৃতরা হলেন, মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার গোবিদার গ্রামের হাজী নুর মোহাম্মদের ছেলে জসিম উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বাজারপাড়ার ষষ্ঠি কর্মকারের ছেলে সুনিল কর্মকার এবং একই গ্রামের ফরাজুল্ল­া মোল্লার ছেলে ওবাইদুল মোল্লা।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। এ দুই মামলার আসামীদের মধ্যে সুনিল কর্মকার ও ওবাইদুল মোল্লাকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে গত ২০ মার্চ আদালতে পাঠায়। অপরজন জসিম উদ্দিনকে গত বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ জেলা কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তবে তাদের কাছ থেকে বড় ধরণের কোন তথ্য আদায় করা যায়নি বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এদিকে প্রকাশ হওয়া এ দুই ঘটনার আড়ালে দুই দফায় আরো অন্তত ৮ কেজি সোনা আটকের গুজব রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে গত ৪ মার্চ ভোরে পৃথক ঘটনায় স্বর্ণের দুইটি চালান ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি চালানের ১১৫০ গ্রাম উদ্ধার দেখানো হয়। অপর চালানের ৪ কোটি টাকার স্বর্ণের কোন হদিস আজও পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে গায়েব করা এ স্বর্ণ বহনকারী ছিল দর্শনার মঞ্জু ও তৈল ইউসুফ নামের দুই ব্যক্তি। ৯০ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে স্বর্ণসহ গোপনে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। এছাড়াও ১০ মার্চ উদ্ধার করা হয় আরো ৮৯৩ গ্রাম সোনা।

সব শেষ ২০ মার্চ শুক্রবার ভোর রাতে ৪ কেজি স্বর্ণ নিয়ে একটি টয়োটা প্রাইভেট কার কোটচাঁদপুর-জীবননগর সড়কে পুলিশ সোর্সের পাতা ফাঁদে ধরা পড়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে কোটচাঁদপুরের এক পুলিশ সোর্সের বাড়িতে ওই দিন সকাল থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত দেনদরবার করা হয় এবং ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয় মালামালসহ  দুই চোরাকারবারিকে।

মধ্যস্থতাকারীকে দেয়া হয় দুই লাখ টাকা। বিকেলে এ খবর জানাজানি হয়ে পড়ে। এরপর তোলপাড় শুরু হয়। চিহ্নিতরা ঘটনা ধামা চাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে।

বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম শাহিন জানান, চলতি মাসে সোনার বড় দুইটি চালানসহ ৩ জনকে আটক করার কারণে পাচারকারী চক্র তার বিরুদ্ধে রিউমার ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আটক করা সোনা গায়েব করার কোন সুযোগ নেই। কারণ, আগে দুই দফায় আটক করা সোনা স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে জব্দ করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন পুলিশ সোর্স পরিচয়ে কেউ সোনা আটক করে পাচারকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ খবর খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সোনা আটক করা সংক্রান্তে কোন তথ্য পাওয়া গেলে তাকে জানানোর অনুরোধ করেছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

বিশেষ সূত্র আরো জানায়, এলাকার একজন চিহ্নিত সোর্স সাদা পোষাকধারী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সোনা ও মাদক পাচারকারীদের পিছু ধাওয়া করে থাকে। কেউ ধরা পড়লে টাকা আদায় করে মালামালসহ ছেড়ে দেয়া হয়। দাবী করা অর্থ যারা দিতে ব্যর্থ হয় তাদের কেবল থানায় হাজির করা হয় এবং মামলা দেয় পুলিশ। চোরাকারবারীদের ধরার জন্য একটি পরিচিত মাইক্রো ব্যবহার করা হয়ে থাকে বলে স্থানীয় ভাবে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সোনা পাচারকারী এবং মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ দিন ধরে কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, জীবননগর সীমান্ত ব্যবহার করে আ্সছে। শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সোনা পাচারের কাজটি করে থাকে তারা।

অন্যদিকে ঝিনাইদহের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বেপরোয়া ভাবে ইয়াবা, মদ ও ফেনসিডিল পাচার হচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমান ফেনসিডিল ও ইয়াবা আটক করতে সমর্থ হলেও নতুন বছরে কম মাদক উদ্ধার হয়েছে।

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায় মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে চোরাকারবারীরা আপতত তাদের কৌশল পাল্টেছে।

এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।