মানিকগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতার হাতে কলেজ শিক্ষক লাঞ্ছিত
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার তালুকনগর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠেছে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে।
নিজের পছন্দ মতো ছাত্র ভর্তি করতে না পারায় মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রলীগের ওই নেতা এ ঘটনা ঘটায়। প্রতিবাদে কলেজ ক্যাম্পাসে বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছেন শিক্ষকরা।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ভূক্তভোগী শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজের ডিগ্রির (পাস কোর্স) প্রথম, দ্বিতীয় বর্ষে (পুরাতন সিলেবাস) ও শেষ বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়াও চলছে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এক হাজার ৬শ টাকা, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্যও একই টাকা এবং শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কলেজের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে ফরম পূরণ ও ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল কয়েক দিন ধরে ফরম পূরণ ও ভর্তিতে নিজের কোটার দাবি করে আসছেন। ওই কোটায় তিনি কলেজের নির্ধারিতের চেয়ে কম টাকায় পাঁচজন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ ও পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু তিনি (ছাত্রলীগ নেতা) ওই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত টাকাই নিয়েছেন। এতে ওই শিক্ষক রাজি হননি। এ কারণে ওই ছাত্রলীগ নেতা শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, বিকালে কলেজ থেকে মোটরসাইকেলে যোগে তিনি জেলা শহরের বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনটার দিকে তালুকনগর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে আসলে ছাত্রলীগ ওই নেতাসহ তিনজন তার পথরোধ করে দাঁড়ান। এরপর শিক্ষকের শার্টের কলার ধরে মারধর করার চেষ্টা করলে কলেজের অপর শিক্ষক আলমগীর হোসেন বাধা দেন। পরে মোজাম্মেল তাকে ফের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তাকে লাঞ্ছিত করা করা হয়নি। হুমকিও দেয়া হয়নি। ফরম পূরণ ও ভর্তির জন্য ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর কাছ থেকে কিছু টাকা কম নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অজিত কুমার সাহা বলেন, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা সত্য। কলেজে ভর্তি কিংবা ফরম পূরণের সময় ছাত্রলীগের নেতা মোজাম্মেল শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিতের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা নেয়। কিন্তু ভর্তি কিংবা ফরম পূরণের সময় নির্ধারিতের চেয়ে কম টাকা দেয়। বাকি টাকা লুট করে নেয়। শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আগামীকাল বুধবার কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বি. এম খোরশেদ/এমএএস/জেআইএম