পাল্টে গেল সেই বিদ্যালয়ের দৃশ্যপট
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজে ‘শিক্ষার্থী নেই তবুও বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। রাতারাতি পাল্টে গেছে সেই বিদ্যালয়ের দৃশ্যপট।
রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুলানো হয়েছে নতুন সাইনবোর্ড। নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে বড় একটি টিনের ঘর। চলছে দরজা-জানালা তৈরিসহ অন্যান্য কাজ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার পাশেই ঝুলানো হয়েছে বিদ্যালয়ের নতুন সাইনবোর্ড। নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে একটি টিনের ঘর। ভেতরে চলছে ওই নির্মাণাধীন ঘরের অন্যান্য কাজ। ঘরের সামনে একটি কাঁচা বাঁশের উপরে উড়ছে জাতীয় পতাকা। ঘরটির সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর দেখা মিললো।
কথা হয় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার নূরীর সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক।
তিনি জানান,বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার প্রায় চব্বিশ বছর হলেও নানা জঠিলতার কারণে পাঠদান সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে বিদ্যালয়টির ঘর নির্মাণ হয়েছে, অন্যান্য কাজও চলছে। বিদ্যালয়টি পাঠদান উপযোগী করে তুলতে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির খন্দকার রাজু বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আমাদের কাছে কাগজপত্র চেয়েছে তাই আমরা কাগজপত্র দিয়েছি। ইতিমধ্যে ‘গ’ গ্রেডের (তৃতীয় ধাপ) তালিকাভুক্ত হওয়া শুধু আমাদের স্কুলেই নয়, উপজেলার মোট ৩০টি স্কুলেরই প্রায় একই অবস্থা বলে দাবি করেন তিনি।
ওই এলাকার দুলাল মিয়া জানান, বিদ্যালয় নামের সেই বেড়াবিহীন ঘরটি নির্মানের দীর্ঘদিন হলেও পাঠদানতো দূরের কথা, সেখানে গরু-ছাগল রাখা হত। আর ওই বিদ্যালয়টি দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, কাগজে-কলমে রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও গত ২৪ বছরে সেখানে কোনো প্রকার পাঠদান হয়নি। নেই কোনো ছাত্র-ছাত্রী। আর যাদেরকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের ২/১ জনকে নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ। এত কিছুর পরেও রহিমা নগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের ওই সাইনবোর্ড সর্বস্ব স্কুলকে ‘জাতীয়করণের’ অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ইতিমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগামীতে তৃতীয় ধাপে ‘জাতীয়করণের’ সুযোগ নিতেই দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেন পাটগ্রামের ওই স্কুলের সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটিসহ শিক্ষকরা।
রবিউল হাসান/আরএআর/জেআইএম