জয়পুরহাটের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম কার্যক্রমে ভাটা
জয়পুরহাটের মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। কোটি টাকার ল্যাপটপ-প্রজেক্টর প্যাকেট বন্দী হয়ে আছে।
দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পড়াশোনাকে মানসম্মত, আধুনিক তথ্য- প্রযুক্তিগতভাবে আরও অগ্রসর ও বিকশিত করার উদ্যোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে টিকিউআই প্রজেক্ট চালু করা হয়। প্রথম অবস্থায় ২০ হাজার ৫`শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এই প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে জয়পুরহাটে ৫টি উপজেলার ২৩৪ টি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়ার ক্লাস রুম করার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং একই অর্থ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে অত্যাধুনিক ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, স্পীকার, মডেম দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
জয়পুরহাট জেলায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে জেলার ৪শ শিক্ষককে কম্পিউটার ও আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের চরম অদক্ষতা ও উদাসীনতার কারণে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ভেস্তে যেতে বসেছে।
জেলার ২৩৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা হয়নি বলে জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানানো হলেও সরেজমিনে জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। ১৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদান করার যে কথা জানানো হয়েছে তাতেও বাস্তবতার কোন ছোঁয়া নেই।
সরকার প্রকল্পটি সফল করতে কোটি কোটি টাকার যে সব কম্পিউটার সামগ্রী সরবরাহ করেছেন তা কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যাকেট বন্দী হয়ে এখনও পড়ে রয়েছে। আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দর্শনীয় সামগ্রীর মতো সেগুলো টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
জেলার হাতে গোনা ৪-৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করে
পাঠদানের চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সামগ্রী গ্রহণ করে তার কোন পদক্ষেপ করা হয়নি।
জয়পুরহাট সরকারি ডিগ্রী কলেজের ল্যাপটপ এখনও প্যাকেট বন্দী হিসাবে দেখা গেছে। জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মোফাখখারুল ইসলাম জানান, পদার্থ, প্রাণীবিদ্যা বিষয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা থাকলেও অন্য বিষয়গুলির জন্য মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা তারা করছেন।
জয়পুরহাট সরকারি রামদেও বাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক শাহীন আকতার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, সব বিষয়ে ল্যাপটপ-প্রজেক্টর দিয়ে ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ব্যতিক্রম জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজটির মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মীম তর্ণা জানান, তাদের আলাদা ক্লাস রুমে কম্পিউটার ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হয়।
একইভাবে তেঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোত্তালিব জানান, তারা আলাদা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে প্রতিটি বিষয়ে নিয়মিত ছাত্রদের পাঠদান করিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে ছাত্র/ছাত্রীরা তাদের পড়াশুনায় উপকৃত হচ্ছেন।
জয়পুরহাট সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এআর আসাদুজ্জামান জানান, সকল শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আরও সক্রিয় হলে এ মাল্টিমিডিয়া কার্যক্রমকে সফল করা যাবে।
জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক (আইসিটি বিভাগের দায়িত্ব) মোঃ আবু সাইদ জানান, শিক্ষকদের সাথে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এমনটি এখনও করা যায়নি। তবে খুব শীঘ্রই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।
জেলার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিচালনা কমিটির সদস্য সহকারী কমিশনার (আইসিটি শাখা) মোহাম্মদ আতিক এস.বি.সাত্তার জানান, আমরা জয়পুরহাটে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে অচিরেই মনিটরিং করব। এই মনিটরিং কালে যদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের গাফিলতি পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
সরকারের আকর্ষণীয় ও পড়াশুনায় সহজবোধ্য অগ্রসর উন্নত অত্যাধুনিক পাঠদান প্রক্রিয়ার প্রকল্পটি সফল করতে জেলার শিক্ষা অফিস দফায়-দফায় এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিচালনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা করেও একে এখনও ফলপ্রসু করতে পারেন নি।
তাই এই জেলায় সরকারি শিক্ষা বিষয়ক এমন মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি পাঠিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আইসিটি পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
এমজেড/পিআর