২৮ মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস


প্রকাশিত: ০৬:২১ এএম, ২৮ মার্চ ২০১৫

১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ। রংপুরবাসীর কাছে অবিস্মরণীয় একটি দিন। স্বাধীনতাপ্রিয় প্রতিবাদী রংপুরবাসী ৭১`র এই দিনে লাঠিসোটা, তীর-ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে জন্ম দিয়েছিল এক অনন্য ইতিহাসের।

২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর মাত্র একদিন পরই রংপুরবাসী ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল সে পথ ধরেই সূচিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রাম। একাত্তরের তিন মার্চ কিশোর শংকুসহ তিনজন শহীদ হওয়ার পর রংপুরের স্বাধীনতাকামী মানুষ সংগঠিত হতে থাকে। প্রস্তুতি গ্রহণ করে সশস্ত্র সংগ্রামের। এরই অংশ হিসেবে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও এর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বাধীনতাকামী মানুষ।

দিনক্ষণ ঠিক হয় ২৮ মার্চ। ঘেরাও অভিযানে যোগ দেওয়ার আহবান জানিয়ে রংপুরের বিভিন্ন হাটে-বাজারে ঢোল পেটানো হয়। আর এ আহবানে অভূতপূর্ব সাড়া মেলে। সাজ সাজ রব পড়ে যায় চারদিকে। যার যা আছে তাই নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নেয় এ অঞ্চলের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছাত্র, কৃষক, দিনমজুরসহ সকল পেশার সংগ্রামী মানুষ।

রংপুরের আদিবাসীরাও তীর-ধনুক নিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকে। এক্ষেত্রে মিঠাপুকুর উপজেলার ওরাঁও সম্প্রদায়ের তীরন্দাজ সাঁওতালদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তীর-ধনুক, বল্লম, দা, বর্শা নিয়ে তারা যোগ দিয়েছিল ঘেরাও অভিযানে।

এদিনে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে একটানা মেশিনগানের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে চারদিকে তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় মৃতদেহ।  সে এক মধ্যযুগীয় বর্বরতায় পুরো এলাকার বাতাস মুমূর্ষু মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠে। কয়েক হাজার নিহত মানুষের মৃতদেহ এক জায়গায় জড়ো করে পুড়িয়ে ফেলে পাকিস্তানি সেনারা।

ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও অভিযানে আত্মত্যাগী মানুষগুলোর স্মৃতিকে স্মরণ করতে ২০০৩ সালে সেই ঐতিহাসিক নজিরের হাটে ‘রক্ত গৌরব’ নামে নির্মিত করা হয় একটি স্মৃতিস্তম্ভ। রংপুরবাসী এই দিনে `রক্ত গৌরব` স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে বীর বাঙালি শহীদদের।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ, জেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘রক্ত গৌরব’ এ পুস্পমাল্য অর্পন করেন। পরে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক  মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু প্রমুখ।

এসএইচএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।