বিয়ে বাড়িতে গুলি ছুড়ে উল্লাস : ক্ষমা পেলেন মেয়র ছানা


প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ৩১ জানুয়ারি ২০১৭

অবশেষে ক্ষমা চেয়ে হলফনামা দিয়ে পার পেলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে শর্টগানের গুলি ছুড়ে উল্লাস করা ভেড়ামারা পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল ইসলাম ছানা।

ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান।

এর আগে তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ক্ষমা প্রার্থনা করে একটি হলফনামা জমা দেন আলোচিত মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা।

জেলা প্রশাসন দফতর সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি অমান্য করে ভাতিজির বিয়েতে নিজের শর্টগান থেকে গুলি ছুড়ে আনন্দ উদযাপন ও পিস্তল প্রদর্শনের ঘটনায় ভেড়ামারা পৌর মেয়রকে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই জেলা প্রশাসকের কাছে সশরীরে গিয়ে লিখিত জবাব দেন পৌর মেয়র।

মঙ্গলবার বিকেলে তিনি তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামায় তিনি এ ধরনের ভুল আর হবে না বলে অঙ্গীকার করেন এবং শেষবারের মতো ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে একবার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলি ছুড়ার ঘটনায় ভেড়ামারা পৌর মেয়র তিনশত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি হলফনামা দিয়েছেন। সেদিন ভুলবশত গুলি ছুড়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে আইন লঙ্ঘন করে এ ধরনের কোনো কাজ করবেন না মর্মে হলফনামায় অঙ্গীকার করেছেন মেয়র। ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় এবারের মতো তাকে ক্ষমা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান লাকী জানান, লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের ব্যাপারে নতুন একটি সার্কুলার হয়েছে। সেখানে বলা আছে কোনো উন্মুক্ত স্থানে গুলিবর্ষণ করা যাবে না। শুধুমাত্র চাঁদমারিতে অনুমতি সাপেক্ষে অস্ত্র পরীক্ষা করা যাবে। যেহেতু বিষয়টি সার্কুলার আকারে এসেছে, এখনো কোনো আইন হয়নি। তাই সুনিদিষ্ট ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনে করলে যে কাউকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।

গত ১০ জানুয়ারি রাতে ভাতিজির বিয়ের অনুষ্ঠানে শর্টগানের গুলি ছুড়ে উল্লাস করেন ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র শামীমুল ইসলাম ছানা। তিনি সেখানে পিস্তলও প্রদর্শন করেন। এমন দৃশ্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

ঘটনার পরের দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শামীমুল। এ ঘটনায় ‘কেন অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না’ তা জানতে চেয়ে মেয়রকে ১৫ জানুয়ারি এক সপ্তাহের সময় বেধে দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান। ২৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেন ছানা।

লিখিত জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। প্রতিপক্ষরা আমাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। আমার কাছে আগে থেকেই সংবাদ ছিল, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা হতে পারে। সে কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দ উদযাপনের নামে গুলি ছুড়েছি। তিনি শেষবারের মতো ক্ষমা করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে মঙ্গলবার বিকেলে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে একটি হলফনামা জমা দেন।

আল-মামুন সাগর/এআরএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।