বাহারি আয়োজনে সরগরম ফেনীর ইফতার বাজার, দুপুর থেকেই ক্রেতাদের ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০২:৪৬ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে জমে উঠেছে ফেনীর ইফতার বাজার। সুস্বাদু ইফতার সামগ্রী কেনার জন্য প্রতিদিন দুপুর গড়াতেই শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন রেস্তোরাঁগুলোতে। ফলে নানা রকম মুখরোচক খাবারের সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ, আর বিক্রেতাদের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে। ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় বাহারি রকমের ইফতারে ফেনীর এই বাজার রমজানজুড়ে ভোজনরসিকদের জন্য হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

শহরের নবী হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ, রেডিক্স হোটেল, হেরিটেজ লাউঞ্জ, গোল্ডেন প্যালেস রেস্তোরাঁ, জালালীয়া সুইটস, ক্রাউন ওয়েস্ট, রহমানিয়া হোটেল, নাহার চৌধুরী চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, হোটেল সাউদিয়া, মেজ্জান ডাইন, জেল রোডে ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট, মডেল থানার বিপরীতে সৌদি আল-ফাহাম রেস্টুরেন্ট, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে স্টার লাইন সুইটস, বেস্ট ইন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, জান্নাত রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকানসহ শহরের অলি-গলিতে নানা রকম বাহারি ইফতার বিক্রি করতে দেখা যায়।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সামনেই পসরা সাজিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। প্রতিদিন চলছে বেচাকেনার ধুম। বাহারি ইফতারের মধ্যে শামি কাবাব, টিক্কা কাবাব, চাপালি কাবাব, মুরগির রোস্ট, আস্ত মুরগি মোসাল্লাম, খাসির মাংসের কিমা পরোটা, গরুর মাংসের কিমা পরোটা উল্লেখযোগ্য। এ বছর রোজায় হালকা গরম অনুভূত হচ্ছে। সারাদিনের রোজা শেষে রোজাদারদের তৃপ্তি দিতে পানীয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফেনী শহর ঘুরে দেখা যায়, পরিবারের সবার সঙ্গে ইফতার করতে হোটেলে ভিড় করছেন ক্রেতারা। প্রতিদিন সকাল থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁর সামনে মালিক ও কর্মচারীদের ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থানে শোভা পেতে শুরু করে ইফতার সামগ্রী। আর ইফতারের ঘণ্টা দু’য়েক আগে থেকেই পড়ে বেচাকেনার ধুম। আর পথচারীসহ যারা বাইরে ইফতার করেন তাদের জন্য আসন বিন্যাস করে রাখা হয়েছে রেস্তোরাঁগুলোতে। ইফতারের আধা ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হয় রেস্টুরেন্টগুলোতে চেয়ার দখলের লড়াই। বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খিচুড়িসহ পাওয়া যাচ্ছে জিলাপি, ছোলা, পেঁয়াজু।

দোকানিরা জানান, প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকাইয়া আদলে তৈরি ইফতার সামগ্রীতে মজেছেন ক্রেতারা। জনপ্রিয় আইটেমের মধ্যে শাহী জিলাপি, নানা রকম কাবাব, ছোলা, বেগুনি, আলুর চপ, পেঁয়াজু, চিকেন ফ্রাই এবং ঐতিহ্যবাহী হালিম, স্পেশালের মধ্যে রয়েছে আস্তো খাসির মাংস, আস্ত মোরগের রোস্ট, কাবাব, কোয়েল-কবুতর ভুনা, মোরগ পোলাও, পেস্তা বাদামের শরবত, বটি কাবাব, টিকিয়া কাবাব, কোফতা, চিকেন কাঠি, শামি কাবাব, শিকের কাবাব, রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, বিফ আখনি, মুরগির আখনি, হালুয়া, হালিম, কাশ্মীরি শরবত পরোটাসহ অর্ধশতাধিক জাতের ইফতার সামগ্রী।

এদিকে পুরো রমজানজুড়ে ফেনীর গোল্ডেন প্যালেসে রয়েছে প্রতিদিন মাত্র ৬৫০ টাকায় বাফেট ইফতার এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে কাস্টমাইজড ইফতার প্যাকেজ, মেজ্জান ডাইনে ২৮০ টাকার প্যাকেজ চালু রয়েছে।

ইফতার ক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, বাসায় কয়েক পদের ইফতার তৈরি করা হয়েছে তবু পরিবারের সবার সঙ্গে ইফতার করতে এসেছি বাড়তি কিছু ইফতারি আইটেম নেওয়ার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ইফতার কিনতে হয়েছে। বিভিন্ন রকম মুখরোচক ইফতার পাওয়া যায়।

রোজার শুরুতেই বাহারি ইফতারের পসরা সাজানো হয় ফেনীর এ প্রাচীন নবী হোটেল অ্যান্ড বিরানি হাউজ, যা থাকে মাসজুড়েই। হোটেল মালিক মো. কামাল উদ্দিন জানান, প্রতিকেজি জিলাপি ১৪০-১৮০ টাকা, দই বুন্দিয়া ২৬০, ফিরনি কেজি ২৫০ টাকা, ছোলা ১৮০ টাকা কেজি। কাবাবের মধ্যে চিকেন রেশমি কাবাব ৮০, চিকেন ফ্রাই ১০০, চিকেন স্টিক পিস ১০- ১২০, চিকেন নাগেট ৮০-১০০ টাকা, বিফ জালি কাবাব ২০-৪৫, বিফ স্টিক ৫০-৬০ টাকা ও বাখরখানি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পিস বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাহারি ইফতার তৈরিতে পুরান ঢাকার চক বাজারের মতো তাদের হোটেলের রয়েছে ঐতিহ্য। মোগল আমল থেকে চক বাজারের ইফতারের ঐতিহ্য গড়ে ওঠে। আমরা ফেনীর ক্রেতাদের কাছে সেই মানের ইফতার বিক্রি করছি। আমাদের ইফতার সামগ্রীতে কোনেরা প্রকার রং বা রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় না। ইফতার তৈরিতে প্রতিদিন নতুন ও তাজা জিনিসপত্র ব্যবহার করে থাকি।

ইফতারের দাম বাড়ার পেছনে কারণ হিসেবে রেস্তোরাঁ মালিকরা বলেন, রোজা এলেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। যে কারণে ইফতার সামগ্রীর দাম বাড়াতে হয়। এছাড়া ভোজ্যতেলেরও দাম বাড়তি, তা কারো অজানা নয়।

ফেনী জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফসার কবির শাহাজাদা জানান, নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে শহরে বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোরাঁ বিপাকে আছে। তবুও আমরা ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে লাভ কম হলেও হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি, রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় থাকে ভুনা ও পাতলা খিচুড়ি। এসবের সঙ্গে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, বাখরখানি, জিলাপি ইত্যাদি তৈরি করছি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম জানান, ভেজাল ও মানহীন ইফতার সামগ্রী তৈরি বন্ধে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। চলতি রমজানে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনেক তৈরিকৃত খাবার ধ্বংস করা হয়েছে। জনস্বার্থে এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।