আবারও বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ


প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

যশোরের বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের নতুন সড়ক দিয়ে রফতানি না করা ও বড় ব্যবসায়ীদের পণ্যবাহী ট্রাক আগে প্রবেশের প্রতিবাদে বন্দর ব্যবহারকারীদের হঠাৎ ডাকা ধর্মঘটের কারণে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকার কারণে দুইবন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক।

এর মধ্যে পচনশীল ও শতভাগ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্যও রয়েছে। তবে পাসপোর্ট যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।

ওপারের বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, নতুন আইসিপি চেকপোস্ট চালু করা হলেও শুল্কায়ন কার্যক্রম পুরাতন কাস্টমস হাউস থেকে হয়ে আসছিল এবং রফতানি কার্যক্রমও হতো পুরাতন পার্কিং থেকে।

শনিবার সকাল থেকে পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম পুরাতন ভবন থেকে নতুন ভবনে শুরু করেন। পুরাতন পার্কিং থেকে নতুন পার্কিংয়ের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। রফতানির স্থান থেকে কাস্টমস হাউসের দূরুত্ব অনেক বেশি হওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাদের।

পরে কাস্টমসের সাথে আলোচনা করে পুনরায় পুরাতন সড়ক দিয়ে রফতানি চালু করার সিদ্ধান্ত হলেও পেট্রাপোলের বড় ব্যবসায়ীদের রফতানি পণ্যের চালান আগে বেনাপোল বন্দরে ঢোকানোর নির্দেশ আসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

এতে ছোট ব্যবসায়ীরা এ আদেশের প্রতিবাদ জানিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি সিরিয়াল হিসেবে পণ্যবাহী ট্রাক যাবে বাংলাদেশে। কে বড় আর কে ছোট এটা দেখলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ীকভাবে ব্যবসা হারাবে।

এর সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো আমদানি-রফতানি হবে না এই পথে। হঠাৎ করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সকাল থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসেনি ও পেট্রাপোল বন্দরে যায়নি।  

ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সকাল থেকে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের সাথে আলোচনার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকার কারণে দুইবন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দাবি আদায়ে যে কোনো কর্মসূচি ব্যবসায়ীরা ডাকতে পারেন। কিন্তু বিষয়টি যদি তারা আগে থেকে আমাদের জানাতেন তাহলে আমদানি স্থগিত করা হতো।

এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কম হতো। আমদানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বেনাপোল ও পেট্রাপোল দুই বন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় আটকা রয়েছে পণ্যবাহী সহস্রাধিক ট্রাক। এর মধ্যে মেশিনারি, গার্মেন্টস সামগ্রীর কাঁচামালের পাশাপাশি মাছ, ফুল, পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না করলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা (সুপার) আব্দুস ছামাদ জানান, ভারতের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস ও কাস্টমসের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক নতুন সড়ক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকে কেন্দ্র করে পেট্রাপোলের বন্দর ব্যবহারকারীরা এ পথে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল।

মো. জামাল হোসেন/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।