পৌর নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর বাঘাইছড়ি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

দেশের মানচিত্রে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী সর্ববৃহৎ উপজেলা বাঘাইছড়ি। রাঙামাটি পার্বত্য জেলার এ উপজেলাটি গঠিত একটি পৌরসভাসহ আট ইউনিয়ন নিয়ে। বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে উপজেলা সদর।

২০০৪ সালে গঠিত এ পৌরসভাটির দ্বিতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। তারা রাতদিন একাকার ব্যস্ত সময় পার করছেন জনসংযোগ, সভা ও উঠান বৈঠক নিয়ে। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ৩ হেভিওয়েট প্রার্থী। এ তিন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। ফলে নির্বাচনে হারজিত নিয়ে সঠিক হিসাব মেলাতে পারছেন না প্রার্থীরা। সরেজমিন প্রত্যক্ষ ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

মেয়র প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের জাফর আলী খান (নৌকা), বিএনপির মো. ওমর আলী (ধানের শীষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুর রহমান (মোবাইল ফোন)।

৯ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫ এবং ৩টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থী সবাই এখন মাঠে। অন্যদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় ভোটাররা। প্রার্থীদের নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করছেন তারা। চলছে নানা জল্পনা কল্পনা ও হিসাব-নিকাশ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর বলেন, বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিয়েছে দল তার পক্ষে কাজ করবে। যাকে দলীয় প্রার্থী দেয়া হয়েছে, তিনি স্থানীয় প্রবীণ রাজনীতিক, পরীক্ষিত ও যোগ্য নেতা। বাঘাইছড়িতে আওয়ামী লীগের প্রতি গণজোয়ার আছে। সুষ্ঠু ভোট হলে দলীয় প্রার্থীর বিপুল জয় হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হলে মেয়র পদে বিএনপির জয় নিশ্চিত হবে।

উল্লেখ্য, বাঘাইছড়ি পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের শেষের দিকে। নির্বাচনে জয়ী হন জামায়াত-শিবির নেতা মো. আলমগীর কবির। তার আগে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে পরিচালনা করা হয়েছিল এ পৌরসভাটি। এবার দ্বিতীয় নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ১৭৭ জন বলে জানায়, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিস।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. জাফর আলী খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে আছি। এলাকার সবার দোয়া-আশীর্বাদ নিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। জয়ী হলে অবহেলিত এই পৌরসভার উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করব।

দলমত নির্বিশেষে আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবে বলে আমি দৃঢ় আশাবাদী। আমি জয়ী হলে আমার প্রথম কাজ হবে এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা। পৌরসভাটি আজও অনুন্নত। উন্নয়নে যা যা দরকার তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। পৌরবাসীর সেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ওমর আলী বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়লাভ নিয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। কিন্তু ডিজিটাল কারচুপির আশংকায় রয়েছে। জনগণ আওয়ামী লীগকে আর চায় না। তারা কেবল নিজেদের ফায়দা লুটছে তাই।

বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তিনস্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পর্যাপ্ত টহল পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।