নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার, সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ


প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সন্তোষপুর-মানিকপুর রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তার নির্মাণকাজ চলছিল। নিয়ম না মেনেই হচ্ছিল এ কাজ। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলে মঙ্গলবার দুপুরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন ইউএনও।

এছাড়া কেন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকল্পটি কেন তদারকি করা হয়নি এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গণির কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. নূরুল হাফিজ মঙ্গলবার বেলা ২টার সময় উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গণির কাছে লিখিতভাবে জবাব দেবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বৃহত্তর কুষ্টিয়া প্রকল্পের (জিকেপি) অধীন ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে সন্তোষপুর-মানিকপুর কাঁচা রাস্তার ১ কিলোমিটার লম্বা এবং ৩ মিটার চওড়া এইচবিবি (হেরিংবন বন্ড) নির্মাণ কাজ করার জন্য টেন্ডার হয়।

মেসার্স দেলোয়ার হোসেন দিনু কনস্ট্রাকশন ফার্ম কাজ পেয়ে এক সপ্তাহ আগে যথারীতি কাজ শুরু করে। শর্ত অনুযায়ী ৬ ইঞ্চি বালির ওপর ১ নম্বর ইট দিয়ে কাজ করার কথা।

কিন্তু কাজের গুণগত মান নিয়ে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে অভিযোগ করেন।

সোমবার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারের লোকজনকে কাজ বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেন ইউএনও।

এ নির্দেশ অমান্য করে মঙ্গলবার আবারও ৩ নম্বর ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল হাফিজ বেলা ১টার সময় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা কাউকে পাননি এবং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় কাজ বন্ধ করে দেন।  

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে রীতিমতো পুকুর চুরি হচ্ছিলো। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে একাজ করছিলো উপজেলা প্রকৌশলী অফিস। অভিযোগের আঙুল উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গনির দিকে।

তদারকির কথা থাকলেও ফিরেও তাকাননি উপজেলা প্রকৌশলী অফিস। ফলে ইচ্ছেমতো কাজ করছিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

দীর্ঘদিন পর খানাখন্দকে ভরপুর রাস্তাটিতে কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মনে স্বস্তি এলেও নির্মাণ কাজ দেখে তারা হতাশ। রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর এই রাস্তার কাজ শুরু হওয়া শুভ লক্ষণ হলেও নির্মাণ কাজের অনিয়মের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক দোলোয়ার হোসেন দিলু বলেন, ভুলক্রমে ৪ ট্রাক ২ নম্বর ইট এসেছিল। তা ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গণির সাথে যোগাযোগ করার জন্য কয়েকবার তার অফিসে গিয়েও দেখা মেলেনি। এমনকি তার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল হাফিজ বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর উপজেলা প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সালাউদ্দীন কাজল/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।