সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষায় রাবার ড্যাম


প্রকাশিত: ১২:৩৭ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৫

সুনামগঞ্জের দু’টি হাওরের বোরো ফসলকে পাহাড়ি ঢল ও আগাম থেকে রক্ষার জন্য নির্মিত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ রাবার ড্যাম। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের অর্থায়নে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মনাই নদীর মিছাখালি এলকায় ২২০ মিটার দীর্ঘ ড্যামটির নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

রাবার ড্যামটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে আগামী মৌসুমে মনাই নদীর ভাটিতে অবস্থিত আঙ্গারুলি ও খরচার হাওরের সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। প্রকল্পের সঙ্গে একটি সেতু থাকায়  নদীর দুই পাড়ের কয়েকটি গ্রাম আসবে সড়ক যোগাযোগের আওতায়।

অপরদিকে, অতীতে দু’টি হাওরের কয়েক হাজার কৃষকের বোরো ফসল রক্ষায় প্রতিবছর কোটি টাকা ব্যয়ে মাটির বাঁধ নির্মাণ করে দিলেও দুর্নীতির কারণে তা নির্মাণ কাজ ঠিকমতো হতো না। যে কারণে ঢল ও বন্যার চাপ কিছুটা বেশি হলে সেটি আর কার্যকর থাকতো না।

রাবার ড্যাম নির্মাণ করে ফসল রক্ষার দীর্ঘমেয়দী এই উদ্যোগে এখানকার কৃষকের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়দী এই প্রকল্পটি চালু হলে ফসল তলিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় আর ভূগতে হবে না তাদের।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মিছাখালি রাবার ড্যামের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও নারী সংসদ সদস্য শাহানা রব্বানী।

বিএডিসি’র সুনামগঞ্জ জোনের সহকারী প্রকৌশলী একেএম আপেল মাহমুদ জানান, ড্যাম প্রকল্পের নদীর তলদেশে ফাউন্ডেশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এক পাড়ের পাটাতনও নির্মাণ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রকল্প মেয়াদ থাকলেও কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে আগামী বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

বিএডিসি জানায়, চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ্য মাসে বোরো ধান কাটার মৌসুমে ১২০মিটার লম্বা ও ৪মিটার উচ্চতার বিশাল আকৃতির রাবারের ব্যাগ বাতাস দিয়ে ফুলিয়ে নদীতে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়া হবে। ফসল তোলা শেষ হয়ে গেলে বর্ষায় বাতাস ছেড়ে দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হবে। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে এই রাবার ড্যামটি।

প্রকল্পের ঠিকাদার আলহাজ্ব কেএম ফায়েকুজ্জামান জানান, রাবারের বাঁধের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বিষয়টি বাংলাদেশে এই প্রথম। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি যাতে এটি একটি কর্যকর প্রকল্পে পরিণত হয়। তিনি বলেন, রাবার ব্যাগের ওপর ২০বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। পরবর্তীতে বিএডিসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

স্থানীয় কৃষক জহুরুল আলম বলেন, আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফসল রক্ষার জন্য মিছখালি বাঁধে প্রতিবছর কোটি টাকা ব্যয় করত। দুর্নীতির কারণে ঠিকমতো বাঁধের কাজ করা হতো না। যার ফলে বন্যার চাপ একটু বেশি হলে বাঁধ ভেঙে দু’টি হাওরের বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যেত।

তিনি বলেন, রাবারের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করায় আমাদের শঙ্কা অনেকটা দূর হয়েছে। রাজারগাঁও গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা শাহাব উদ্দিন জানান, রাবার ড্যাম হওয়াতে আমরা লাভবান হচ্ছি। কিন্তু বাঁধের উজানের দু’টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়তে পারে। পানির চাপে নদী ভাঙন দেখা দিতে পারে। এই আশঙ্কা দূর করতে উজানের দুই পাড়ের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা জরুরি বলে আমরা মনে করছি।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, রাবার ড্যামের মাধ্যমে হাওরের ফসল রক্ষার বিষয়টি এখানকার কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত করবে। ড্যামটি চালু হলে আঙ্গারুলি ও খরচার হাওরের একাংশের কৃষকের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, ড্যামটি নির্মাণ হলে এখানকার কৃষকরা অনেক উপকৃত হবেন। নির্মাণ কাজের গুণগত মান ঠিক রাখতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এমজেড/আরআই
    



পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।