বিবস্ত্র ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি : ছাত্রীর বিষপান


প্রকাশিত: ০১:৫৪ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। আর এ অপমানে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ওই ছাত্রী। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পিঞ্জুরী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনা জানাজানি হলে স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

ওই ছাত্রী কোটালীপাড়া উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে সে পরীক্ষা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ভয়ে নির্যাতিতার পরিবার থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিচার দাবি করা হয়েছে। ছাত্রীর বাবা একজন স্কুলশিক্ষক।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিষপানের পর ওই ছাত্রীকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আবার কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই ছাত্রী ঘরের বারান্দায় বসে পড়াশোনা করছিল। মা-বাবা ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন।

একপর্যায়ে বারান্দা থেকে বের হয়ে বাইরে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় একই গ্রামের শ্রীধাম মণ্ডলের ছেলে সম্রাট মণ্ডল, তার সহযোগী বঙ্কিম বিশ্বাসের ছেলে সজল বিশ্বাস ও নির্মল বসুর ছেলে মিঠু বসু তার মুখ চেপে তুলে তাদের ওয়াশরুমের কাছে নিয়ে যায়।

এরপর সেখানে ওই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ওয়াশরুমের বৈদ্যুতিক আলোতে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে এবং এ ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এ অপমান সইতে না পেরে ঘটনার পরই ওই ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

সম্রাট মণ্ডল প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ওই ছাত্রী জানায়।

প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান শেখ বলেন, `সম্রাট, মিঠু ও সজল সমবয়সী। তারা মাদক সেবন করে। এলাকায় ভবঘুরে বখাটে হিসেবে পরিচিত। এর আগেও তারা একাধিক মহিলাকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করেছে।`

তিনি বলেন, `সম্রাট ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।`

ছাত্রীর বাবা বলেন, এ ঘটনা জানাজানি হলে বখাটেরা আমাদের হত্যার হুমকি দিয়েছে। তাদের ভয়ে আমি থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছি না। এ ঘটনার পর আমার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

কোটালীপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এমন খবর আমাদের কাছে আসেনি। ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এআরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।