বেনাপোল ট্রাজেডির তিন বছর
১৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি এলেই সালমা আক্তার হেনার কবিতার কথা মনে পড়ে যায়। ‘মুজিবনগর ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে বাড়ি, যশোর জেলার চৌগাছাতে পড়ল খাদে গাড়ি। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনা হলো সর্বনাশের মূল, ঝরিয়ে দিলো বেনাপোলের নয়টি তাজা ফুল।’
আবারো কালের পরিক্রমায় ফিরে এলো চৌগাছার ঝাউতলা ট্রাজেডির কথা। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল ট্রাজেডির তিন বছর। বেনাপোলে আজ শোক দিবস। এই দিনে মুজিবনগর থেকে শিক্ষা সফর শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থী। আহত হয় আরো ৪৭ জন। নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌরসভা নির্মাণ করেছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ।
শোক দিবসের তৃতীয় বর্ষকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করতে বেনাপোল পৌরসভার আয়োজনে সকাল সাড়ে ৮টায় বেনাপোল ফুটবল মাঠ থেকে শোক র্যালি শুরু হয়ে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অভিমুখে সেই ৯ শিক্ষার্থীর স্মৃতি বিজড়িত ভাস্কর্যে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বেনাপোলের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপস্থিত এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবে। এছাড়াও সকল সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এদিন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোলে পৌর শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। 
২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে মুজিব নগরে যান। সেখান থেকে চৌগাছা হয়ে বেনাপোলে ফেরার পথে ঝাউতলা কাঁদবিলা পুকুর পাড়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৯ জন এবং আহত হয় আরো ৪৭ জন শিশু শিক্ষার্থী।
ঘটনাস্থলে নিহতরা হলো- বেনাপোল পৌরসভার ছোটআঁচড়া গ্রামের সৈয়দ আলীর দুই মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া (১০) ও তার বোন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জেবা আক্তার (৮), ছোটআঁচড়া গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা (১০), রফিকুল ইসলামের মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রুনা আক্তার মীম (৯), লোকমান হোসেনের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শান্ত (৯), গাজীপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন (১০) ও নামাজ গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি (১১)।
১৩ দিন পর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোটআঁচড়া গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইকরামুল (১১) সর্বশেষ দুর্ঘটনার ৩২ দিন পর ১৯ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় একই গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ানুর রহমান (১১)।
আজো কান্না থামেনি হারিয়ে যাওয়া এসব শিশুর পরিবারে। পথ চেয়ে বসে আছে এই বুঝি ফিরে আসছে তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানেরা। তারা চলে গেছে না ফেরার দেশে। আর কোনোদিন ফিরবে না। ঝরে যাওয়া ফুল ফিরে পাবে না পরিবারের সদস্যরা। তাদেরকে অশ্রুতে স্মরণ করবে গোটা বেনাপোলবাসী।
জামাল হোসেন/আরএআর/পিআর