মেহেদীর রঙ শুকালো না স্ত্রীর, চলে গেলেন রাসেল


প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৫

প্রেম করে মাত্র দুই মাস আগে আমার পোলাডা বিয়া করে সুন্দরভাবে সংসার শুরু করতাছিল। বিয়ের আগে কোন কাজ কর্ম করতো না। আমাদের পাশের বাড়ির ডালিয়া নামের এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো।  ৭/৮ মাস প্রেম কইরা আমার পোলাডায় বিয়ে করে ঢাকার মতিঝিলের একটি ব্যাংকের সিকিউরিটি হিসাবে কাজ নেয়। কি অপরাধ করলাম আমরা আল্লাহর কাছে, আমার পোলাডারে নিয়ে গেলো।

শুক্রবার বিকেলে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ডুবুরিরা রাসেলের মরাদেহ উদ্ধার করে ফতুল্লার আলীগঞ্জ খেলার মাঠে নিয়ে আসার পর লাশ দেখে নিহতের মা নাজমা বেগম এভাবেই নদীর তীরে বসে আহাজারি করছিলেন। তিনি বাকরুদ্ধ। কথা বলতে পারছিলেন না। নির্বাক দৃষ্টিতে অপলকভাবে তাকিয়ে ছিলেন ছেলের লাশের দিকে। আর নাজমা বেগম ও ডালিয়ার আহাজারিতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি নদীর পাড়ে থাকা লোকজনেরা।

এদিকে রাসেলের স্ত্রী ডালিয়ার হাতের মেহেদীর রঙ এখনো শুকায়নি। `আমাগো ছাইড়া চইলা গেলা ক্যান?` মাত্র দুই মাসের সংসার করে স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নব পরিণিতা হওয়া স্ত্রী ডালিয়া আক্তার।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক এবিএম মমতাজউদ্দিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের একটি দল শুক্রবার ভোর থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে ৩টি লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকীদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে মতলবের লেংটার মেলা থেকে ঢাকা লালবাগ যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার আলীগঞ্জ ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বুড়িগঙ্গা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। এতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৮ জনের লাশ উদ্ধার করেন ডুবরিরা।

নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এমজেড/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।