ফ্লার্টিং নাকি হয়রানি? সীমারেখাটা কোথায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৫ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হালকা মজা, একটু স্পর্শ, প্রশংসা, চোখে চোখ রাখা - এগুলো কি সবসময় ফ্লার্টিং? নাকি কখনও কখনও তা অজান্তেই হয়ে যায় হয়রানি? সম্পর্কের এই সূক্ষ্ম সীমারেখা না বুঝতে পারলে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ - কোথায় থামবেন?

অন্যের অস্বস্তির কারণ যেন না হতে হয়, তাই আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফ্লার্টিং দিবসে জেনে নিন হয়রানি ও ফ্লার্টিংয়ের সীমারেখা কোথায় -

১. সবচেয়ে বড় পার্থক্য সম্মতি

ফ্লার্টিং তখনই ফ্লার্টিং, যখন দু’জনই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি একমুখী নয়, দ্বিমুখী। উভয় পক্ষের হাসি, আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকলেই সেটি সুস্থ যোগাযোগ।

ফ্লার্টিং নাকি হয়রানি? সীমারেখাটা কোথায়

মনোবিশেষজ্ঞ ড. ক্রিস্টেন জোলি সাইকোলজি টুডে-তে লিখেছেন, অপরপক্ষ ইতিবাচক সাড়া না দিলে বা অস্বস্তি প্রকাশ করলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যাওয়াই ভদ্রচিত আচরণ। সম্মতি না থাকলে সেটি আর ফ্লার্টিং নয়, তা হয় অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ।

২. বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কি বলছে?

সব ‘না’ শব্দে উচ্চারিত হয় না। কেউ যদি চোখ সরিয়ে নেয়, বারবার দূরে সরে যায়, জোর করে হাসে বা কথোপকথন কমিয়ে ফেলে - তবে বুঝতে হবে সে অস্বস্তিতে আছে।

হেলথলাইন জানিয়েছে, অমৌখিক সংকেত বোঝা সুস্থ সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যের শরীরী ভাষা উপেক্ষা করে ফ্লার্টিং চালিয়ে গেলে সেটি হয়রানি তৈরি করতে পারে।

৩. প্রসঙ্গের গুরুত্ব

বন্ধুদের আড্ডায় যে রসিকতা স্বাভাবিক, অফিসে সেটি পেশাদার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে। কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ, উর্ধ্বতন-অধস্তনের সম্পর্ক হলে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।

ফ্লার্টিং নাকি হয়রানি? সীমারেখাটা কোথায়

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মপরিবেশকে অস্বস্তিকর বা ভীতিকর করে তোলে—এমন যেকোনো আচরণই হয়রানির আওতায় পড়ে।

৪. উদ্দেশ্য নয়, প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ

আপনি হয়তো ভাবছেন - আমি তো শুধু মজা করেছি। কিন্তু আপনার মন্তব্যে যদি অন্য কেউ অপমানিত বা আতঙ্কিত হন, তাহলে সেটির মূল বিবেচ্য।

বাংলাদেশে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বিএলএএসটি)-এর আইনি বিশ্লেষণে উল্লেখ আছে, নারীর প্রতি অসম্মানজনক অঙ্গভঙ্গি বা অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য দণ্ডবিধির আওতায় পড়তে পারে। অর্থাৎ আইনের চোখে উদ্দেশ্যের চেয়ে প্রভাব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লার্টিং নাকি হয়রানি? সীমারেখাটা কোথায়

৫. অনলাইনেও একই নিয়ম

বারবার ইনবক্স করা, উত্তর না পেলেও মেসেজ পাঠিয়ে যাওয়া, অশ্লীল ছবি বা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য - এসব ফ্লার্টিং নয়। এটি সাইবার হয়রানি।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)-এর নীতিমালায় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অনলাইনে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

সুস্থ ফ্লার্টিং মানুষকে আত্মবিশ্বাসী ও আনন্দিত করে। হ্যারাসমেন্ট মানুষকে ভীত ও অনিরাপদ অনুভব করায়। পার্থক্যটা সূক্ষ্ম, কিন্তু স্পষ্ট - সম্মতি, সম্মান ও সচেতনতা।

অপরের ব্যক্তিগত পরিসর বা পারসোনাল স্পেস সম্মান করাই হলো প্রকৃত পরিণত আচরণ। স্মার্টনেস মানে শুধু কথা বলা নয় - কখন থামতে হবে, সেটি জানা জরুরি।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, হেলথলাইন, ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন

এএমপি/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।