ভালোবাসা দিবসে ঘুরতে গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ৩ কিশোর


প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে তিস্তা নদীতে নৌকায় ঘুরতে গিয়ে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) মামলার আসামি হলেন নৌকার মালিকসহ তিন কিশোর শিক্ষার্থী। এ মামলায় গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিন কিশোর পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নীলফামারীর ডিমলা থানায় তিন কিশোর শিক্ষার্থী ও নৌকার মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশের ধারায় মামলা করে বিজিবি-৭।

মামলায় আসামি করা হয় ডিমলা উপজেলা কালীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আল-আমিন, আব্দুর রশিদের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, কালীগঞ্জ গেনদির চৌপথী হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র মোস্তফা মণ্ডলের ছেলে আমির হোসেন (৯) ও একই গ্রামের নৌকার মাঝি খোকা মিয়া (৫০)।

তাদের বিরুদ্ধে বুধবার রাত ১০টার দিকে কালিগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আলী আজম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মাঝির কাছ থেকে নৌকা নিয়ে ওই তিন শিক্ষার্থী তিস্তা নদী হয়ে মাছ ধরার জন্য ঝাড়সিংহেশ্বর মৌজার সীমান্ত পিলার ৭৯৪/৬ এস অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের ধাওয়া করলে নৌকা ফেলে পালিয়ে আসে তারা, যা বাংলাদেশ পাসপোর্ট আদেশ ১৯৭৩-এর ১১(১) (ক) অপরাধের শামিল। পরে নৌকাটি ভারতীয় বিএসএফ জব্দ করে।

এদিকে তিন শিক্ষার্থীসহ নৌকার মালিকের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলার ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে এলাকার মফেল উদ্দিন, আবু বক্কর, সোলায়মানসহ আরও অনেকে বলেন, আমরা এই এলাকার বাসিন্দা। বাপ-দাদার আমল থেকে এখানে আমাদের বসবাস। বাচ্চারা নৌকাতে ঘুরতে গিয়ে ভুল করেছে। স্থানীয়ভাবে তাদের ডেকে শাসন করা যেতো। কিন্তু সরাসরি শিশুদের নামে বিজিবি মামলা দেবে এটি মেনে নেয়া যায় না। এদিকে, এলাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রয়োজনে আমরা মিছিল করবো মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে।
 
বৃহস্পতিবার বিকেলে পালিয়ে বেড়ানো ওই তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। এদের মধ্যে হাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ঘটনার দিন দুপুরে তিনজনে মিলে তিস্তা নদীতে নৌকায় ঘুরতে যাই।

নদীতে সীমানা পিলার ও তার কাঁটার বেড়া না থাকায় ভারতের অভ্যন্তরে যে, আমরা প্রবেশ করেছি তা বুঝতে পারিনি। যখন ভারতীয় বিএসএস সদস্যরা আমাদের ধাওয়া দেয় তখন নৌকা ফেলে পালিয়ে আসি। এখন আমাদের বিরুদ্ধে বিজিবি ডিমলা থানায় মামলা দেয়ায় পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

নৌকার মালিক খোকা মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ঘাটে বাধা ছিল নৌকা। গ্রামের ওই তিনজন কখন নৌকা নিয়ে নদীতে ঘুরতে চলে যায় টের পাইনি। বাচ্চারা না হয় ভুল করেছে, সে জন্য আমাদের আসামি করে মামলা দিয়েছে বিজিবি। এখন পুলিশের ভয়ে পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।  

এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ও মামলার বাদী আলী আজম জাগো নিউজকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের মামলা করেছি।

ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মামলা পেয়েছি। এ মামলায় ওই তিন কিশোরসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।