পঞ্চগড়ে শিশুদের ডায়েরিয়ার প্রকোপ


প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

দিনে প্রখর রোদের সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় শীত। ঠাণ্ডা আর গরমের বৈরি আবহাওয়ায় পঞ্চগড়ে ছড়িয়ে পরছে শীত জনিত নানান রোগ। বিশেষ করে নবজাতকসহ শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ডায়েরিয়ায়।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে দেড়শ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে শীতজনিত রোগের। প্রায় অর্ধশত শিশু ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঋতুর গণনায় শীতকাল শেষ হলেও রাতে ঠাণ্ডার রেশ এখনো কাটেনি। এমন আবহাওয়ায় ক’দিন ধরে আকস্মিক বেড়ে গেছে শিশু ডায়েরিয়া রোগীর সংখ্যা।

শনিবার ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৫ শিশু পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নবজাতকসহ ৪৬ শিশু ভর্তি ছিল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে।

আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে দেড়শ শিশু শীতজনিত রোগে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। আকস্মিক শিশু ডায়েরিয়াসহ শীতজনিত রোগী ভর্তি বেড়ে যাওয়ায় বিছানা সংকুলান হচ্ছে শিশু ওয়ার্ডে। ফলে অনেক অভিভাবক শীতের মাঝেও আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন মেঝেতে।

কেউ কেউ ঘরের মেঝেতেও জায়গা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে শিশুদের চিকিৎসায় বর্তমানে তিনজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন হাসপাতালে। এই তিন চিকিৎসকের মধ্যে একজন অধিকাংশ সময় হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।

pa

এদিকে সময় মতো চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও দেয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হয় বলেও অভিযোগ।

শহরের রাজনগর এলাকার পরেশ চন্দ্র বনিক বলেন, সর্দি এবং অতিরিক্ত কাশির সমস্যা নিয়ে ১০ মাস বয়সি শিশুকে শুক্রবার রাত ১২টায় হাসপাতালে ভর্তি করাই। জরুরী বিভাগের দেয়া ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে। পরদিন শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎকের দেখা পাইনি।

এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোস্তাকিন আলী বলেন, প্রতিদিন সময় মতো হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়া হয়। ছুটির কারণে শুক্রবার বাসায় ছিলাম। পরিবহনের কারণে শনিবার আসতে একটু দেরি হয়েছে। দুপুর ১২টার মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে রোগী দেখা হয়েছিল।

আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছর এমন আবহাওয়ায় বিশেষ করে শিশুদের শীতজনিত রোগ বেড়ে যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রয়োজনের তাগিদে দু’একটি ওষুধ বাইরে থেকে নিতে হয়। এছাড়া শিশু ওয়ার্ডের আসন সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি।

সফিকুল আলম/এমএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :