রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও বেড়েছে আমদানি-রফতানি
দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও আমদানি-রফতানি বেড়েছে। বছরের শুরু থেকে ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে প্রায় ৫০ হাজার টিইইউএস (টুয়েন্টি ইকুভ্যালন্ট ইউনিটস)।
চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবাহিত কনটেইনার হ্যান্ডলিং পর্যালোচনায় এ চিত্র পাওয়া গেছে। অবশ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত তিন মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের উধ ঊর্ধ্বমুখীতে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী জাগোনিউজকে বলেন, বর্তমানে দেশের পোশাক শিল্পে চরম মন্দাভাব বিরাজ করছে। পোশাক রফতানি গত তিন মাসে কোনভাবে বাড়েনি, কনটেইনারবাহী অন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি-রফতানি হয়তোবা বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) সূত্রে জানা যায়, দেশের মোট আমদানি-রফতানির ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয়। বন্দরের পরিবহন বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত বছর জানুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে আমদানি ও রফতানিকৃত পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে চার লাখ ১৪ হাজার ৪১৪ টিইইউএস। আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে চার লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৭ টিইইউএস। যা গত বছরের প্রথম তিন মাসের চেয়ে ৪৭ হাজার ২২৩ টিইইউএস বেশি।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের জানুয়ারিতে আমদানি এবং রফতানিকৃত পণ্যবাহী কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩০৫ টিইইউএস, ফেব্রুয়ারিতে এক লাখ ২৭ হাজার ১৭২ টিইইউএস এবং মার্চে হয়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৩৭ টিইইউএস।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমদানি-রফতানিকৃত কনটেইনারবাহ পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৮৩১ টিইইউএস, ফেব্রুয়ারিতে এক লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউএস এবং মার্চে হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৯০৮ টিইইউস।
গত বছরের প্রথম তিন মাসে কনটেইনারবাহী পণ্য আমদানি হয়েছে দুই লাখ এক হাজার ৫২২ টিইইউএস। এ বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ২৮২ টিইইউএস। অন্যদিকে গত বছর প্রথম তিন মাসে কনটেইনারবাহী পণ্য রফতানি হয়েছে এক লাখ ৯৯ হাজার ৮৯২ টিইইউএস এবং চলতি বছরের একই সময়ে হয়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৩৫৫ টিইইউএস।
এসএইচএ/এমএস