গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, ওসিসহ আহত ১৫


প্রকাশিত: ১২:৫৯ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণের জের ধরে সড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা, কোটালীপাড়া থানার এসআই হাফিজুর রহমান ও সদর থানার কনেস্টেবল মতিয়ার রহমানসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে  জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খানও আহত হন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।  আহতদের  গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম  সড়কের পাশে তার মোটরসাইকেলটি পার্কিং করে রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ফটকের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে চান পান করছিলেন। এ  এসময় সহকারী পুলিশ সুপার এয়াকুব হোসেন ওই সড়কে টহল দিচ্ছিলেন। সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি দেখতে পেয়ে গাড়ি থামান এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ছাত্রলীগ নেতা রফিক সহকারী পুলিশ সুপারকে তার পরিচয় দেন। মোটরসাইকেলটি তিনি নিয়ে এসেছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে  মোটরসাইকেলটির কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারলে পুলিশ মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যায়।

তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, পরিচয় পেয়েও পুলিশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। এমনকি ছাত্রলীগকে তুলে কথা বলেছে এবং মোটরসাইকেলটি থানায় নিযে গেছে।

এদিকে, এ খবর দ্রুত ছড়িযে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদে নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসেন।  সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এ সময় তারা এএসপি এয়াকুবের অপসারণ ও তার অসৌজন্যমূলক আচরণের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ওই সড়ক দিয়ে  মোটরসাইকেলে করে কোটালীপাড়া থানার এসআই হাফিজুর রহমান পুলিশ সুপারের কার্যালযের দিকে যাওয়ার পথে উত্তেজিত ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে ধাওয়া করেন। একপর্যায় তারা তাকে মারপিট করে এবং তার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায় পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, গোপালগঞ্জ পৌর সভার মেয়র কাজী লিয়াকত আলী ও সদর থানার ওসি সেলিম রেজা উত্তেজিত নেতা-কর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটের অঘাতে তারা আহত হন।  

গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

এস এম হুমায়ূন কবীর/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।