পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বিক্ষোভ ভাঙচুর


প্রকাশিত: ১২:০৪ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৫

অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা বৃদ্ধির প্রতিবাদে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ করে ভাঙচুর করেছে। এসময় তারা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ শিক্ষার্থী মিজান, মনি, ইমরান, কাউসারসহ অন্যরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ৩য় বর্ষের ১৭টি বিভাগের ফরম পূরণ চলছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটি বিভাগে প্রায় দেড় হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে ৫ হাজার ১০০ টাকার স্থলে ৭ হাজার ৩০০ টাকা, ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৫ হাজার ১০০ টাকার স্থলে ৬ হাজার টাকা, গণিত বিভাগে ৫ হাজার ৪০০ টাকার স্থলে ৬ হাজার ৬২৫ টাকা, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ৪ হাজার ৭০০ টাকার স্থলে ৬ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জাগোনিউজকে বলেন, এত টাকা অনেকের পক্ষেই পরিশোধ করে পরীক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধীনে ১৭টি বিভাগের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী এই পরীক্ষার ফরম পূরণ করবে। এই অতিরিক্ত টাকা কমানোর দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রাখে।

এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলা বিভাগ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের জানালা দরজা ভাঙচুর করে। পরে তারা কলেজ গেটে পাবনা- ঈশ্বরদী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। প্রায় আধাঘণ্টা এই সড়ক অবরোধ থাকে। এসময় রাস্তায় কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

খবর পেয়ে পুলিশ ও কলেজের শিক্ষকরা সেখানে গিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে অবরোধ তুলে দেয় এবং তাদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আব্দুল জব্বার জানান, পরীক্ষার ফরমপূরণের টাকা নির্ধারিত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তাদের কোনো কর্তৃত্ব নেই। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৪৫০ টাকার স্থলে ৫০ টাকা কমিয়ে ২৪০০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

এ ব্যাপারে সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নাইদ মো. শামসুল হুদা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফরম পূরণের টাকা নির্ধারণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তারা শুধু মসজিদ, কর্মচারী কল্যাণ খাতে ১১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছেন মাত্র। তবে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে আরো ৫০ টাকা কমিয়ে আনা হলো। এখন আর ফরম পূরণে কোনো সমস্যা রইল না।

এমএএস/আরআইপি

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।