নওগাঁয় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি
নওগাঁর ছোট যমুনা নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় জনবসতিসহ গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর ছোট যমুনা নদী সদর উপজেলার ইকরতাড়া, শিবপুর হাট, কোমাইগাড়ী ও বরুনকান্দিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শিবপুর হাটের পাশে সদর যমুনা নদী বালু মহাল ইজারা নিয়েছেন জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মেসার্স হ্যাপি ট্রেডার্স ইজারাদার আলহাজ্ব মোয়াজ্জেম হোসেন।
বাইপাস ব্রিজ থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সেখানে তিনটি পয়েন্টে তিনটি ড্রেজার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ৩০০ গজের মধ্যে গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন নিষেধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
সেখানে প্রায় ৫০/৬০ ফিট গভীর করে গত দুই মাস থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন করায় নদীর দুইপাড়ের পাকা রাস্তা, ব্রিজ, শিবপুর হাট কওমি ও দাখিল মাদরাসা, মন্দির, বোল্ডার দুই পাড়ের গাছপালা, ফসলি জমি, বসতি ও পাকা রাস্তা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে। এলাকাবাসী বহুবার নিষেধ করা সত্বেও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। গভীর করে বালু উত্তোলন করায় বসতবাড়ী ও শিবপুর হাট কওমি ও দাখিল মাদরাসায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
এছাড়া বন্যার সময় পানি উন্নয়ন বাঁধ পাকা রাস্তা ভেঙে গেলে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে। ফলে রাস্তা ঘাট, বাড়ি ঘর, ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ইতোপূর্বে গ্রামবাসী এর প্রতিবাদ করলেও কোনো কাজ হয়নি।
অবশেষে বালু উত্তোলন বন্ধ ও গুরত্বপূর্ন স্থাপনা রক্ষার জন্য ২৯৯ জন এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ গত ২৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া হয়।
ইকরতাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বলেন, সেখানে যখন বালু উত্তোলনে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করা হয় তখন অনেক বার তাদের নিষেধ করা হয়েছে। দিনরাত মেশিন চালিয়ে তারা বালু উত্তোলন করছেন। গভীর করে বালু উত্তোলনে ভ‚গর্ভে ধস নামলে সামনের বন্যায় নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এতে করে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে। ফলে রাস্তা ঘাট, বাড়ি ঘর, ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে।
শিবপুর গ্রামের ইয়নুছার রহমান বলেন, গুরত্বপূর্ণ স্থাপনায় তিনটি ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গভীর করে বালু উত্তালন করায় বাড়িতে ফাটল ধরেছে। এলাকাবাসীর স্বার্থে শিগগিরই বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান তিনি।
ইজারাদার আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বালু মহালটি এক বছরের জন্য ভ্যাট ছাড়া প্রায় ছয় লাখ ২৪ হাজার টাকায় ইজারা নেয়া হয়েছে। যেহেতু সেখানে প্রথম থেকেই বালু উত্তোলনে ঝামেলা হচ্ছে। এলাকাবাসীরা বালু উত্তোলন না করার জন্য নিষেধ করেছেন। বালু উত্তোলন না করা হলে তো লোকসান গুণতে হবে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান বলেন, গুরত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কোনো নিয়ম নাই। শিগগিরই বিষয়টি দেখব।
আব্বাস আলী/আরএআর/এমএস