‘সময়মতো অফিসে না আসাও দুর্নীতি’
দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেছেন, যেখানে দুর্নীতি সেখানেই প্রতিরোধ-প্রতিবাদ করতে হবে।
তিনি বলেন, ক্লাসে ফাঁকি দিয়ে কোচিং করানো এক ধরনের দুর্নীতি। সময়মতো অফিসে না আসাও দুর্নীতির সামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি টাউন হল মিলনায়তনে সরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সমস্যাদি শ্রবণ ও নিষ্পত্তি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষে আয়োজিত গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী, দুদকের রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভূইয়া, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সুদর্শন দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. জসিম উদ্দিন মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দুনীর্তির বিরুদ্ধে ৩৭ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ অভিযোগ আমলে নিয়ে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে এএফএম আমিনুল ইসলাম বলেন, আগামীতে সকল অভিযোগের শতভাগ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
‘তথ্য পাওয়া-আমার আইনি অধিকার, সেবা পাওয়া-আমার নাগরিক অধিকার, দুর্নীতিমুক্ত দেশ-আমার সাংবিধানিক অধিকার’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এ গণশুনানির আয়োজন করে।
গণশুনানি চলাকালে বিভিন্ন সরকারি দফতরে সেবা পেতে হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার হওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুদক কমিশনারের কাছে তুলে ধরেন। এ সময় অভিযুক্তদের সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম।
গণশুনানিতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, পার্বত্য পরিষদের একাধিক সদস্য, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/এমএস