স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর যুবকের আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ০৬ মার্চ ২০২৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজের গলায় ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে জয় সরকার (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) ও ২৭ মাস বয়সী মেয়ে জিনি সরকার।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- গৌতম সকারের দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে জয় সরকার গত প্রায় ৮ বছর আগে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলার মেয়ে বৃষ্টি রানীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে জয়। সন্তান মাদক থেকে দূরে থাকবে ও ভালো হয়ে যাবে এই আশায় পারিবারিকভাবে গত ৫ বছর আগে বৃষ্টি রানীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পরও তার অভ্যাস পরিবর্তন না হওয়ায় সংসারে ঝগড়া ও কলহ লেগেই থাকতো। জয় মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া হওয়ার কারণে স্ত্রী বৃষ্টি অনেকবার সংসার ছেড়ে চলে যায় এবং ফিরেও আসেন। মাদক কেনার জন্য প্রায়ই বাবার কাছে চাহিদামতো টাকা দাবি করতো। টাকা দিতে না পারলে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। এসব নিয়ে সংসারে অশান্তি দেখা দিতো।

তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতেও এসব বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। রাতের খাবার খেয়ে তারা যে যার মতো ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়ের ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে যায়। এরপর লক্ষ্য করেন, জয়, জয়ের স্ত্রী ও সন্তানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে স্ত্রী বৃষ্টি রানী মারা যান। গুরুতর অবস্থায় জয় সরকার ও মেয়ে জিনি সরকারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তারাও মারা যান।

ঘটনাটি জানতে ও এক নজর দেখতে স্থানীয় সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সকাল থেকে ওই বাড়িতে ভিড় করেন। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় ওই বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা ছিলেন।

প্রতিবেশী বিজন কুমার ও ভুবন বলেন, জয় মাদকাসক্ত ছিল। নেশার জন্য টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায় ঝগড়া হতো। টাকা না দিলে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। একাধিক মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন আছে। তারপরও আরো চাহিদা ছিলো। মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়ের বাড়িতে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পাই। বাড়ির বাইরে এসে দেখি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করা হচ্ছে। জয়ের গলায় রক্তাক্ত কাপড় পেঁচানো ছিল, তার স্ত্রী ও সন্তানের বুকে-পেটে ছুরিকাঘাত এবং প্রচুর রক্ত ঝরছিল।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শেফালি খাতুন বলেন- রাতেই ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু আসতে পারিনি। সকাল ৮টার দিকে নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারটি ভালো ছিল। কিন্তু মাদকাসক্ত ছেলের কারণে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। মাদকের কারণে তিনটি জীবন শেষ হয়ে গেলো।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে স্ত্রী বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জয় সরকার মাদকাসক্ত ছিল। জয় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বেপরোয়া আচরণ করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেও ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেছে জয়। বিষয়টি তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরমান হোসেন রুমন/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।