চার দিনের বর্ষণে আলুর লক্ষ্যমাত্রা পতনের আশঙ্কা


প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৭

দেশের সর্বোচ্চ আলু উৎপাদনের তালিকায় উল্লেখযোগ্য মুন্সিগঞ্জ জেলা। প্রতি বছর এ জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়ে থাকে। যার লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ মেট্রিক টনের ওপরে। তবে আলু উত্তোলনের এমন সময় চার দিনের টানা বর্ষণে প্রায় ৯০ হেক্টর জমি নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তা।

সরেজমিনে আলু আবাদি জমি ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে জমি থেকে বৃষ্টি জল নিষ্কাষণের জন্য নালা কেটে দেয়া হচ্ছে, শ্যালো মেশিন বসিয়ে জল সরানো হচ্ছে। পাশাপাশি আলুও উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অলু আবাদ করা হয়েছে। ৬টি উপজেলার সর্বত্র ফলনও হয়েছিল ভালো। তবে আলু উত্তোলনের ঠিক মোক্ষম সময় টানা বর্ষণের ফলে আলুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

হতাশাগ্রস্ত কৃষক আব্দুল-কাইউম হাওলাদার জানান, এ অঞ্চলে জমিগুলো তিন মাস পরিচর্যা শেষে মার্চের শুরু থেকে আলু উত্তোলন করা হয়। কিছু কিছু জমির আলু উত্তোলন আগে হলেও বেশির ভাগ জমির আলু উত্তোলন বাকি রয়েছে এখনও। এমতাবস্থায় চার দিন টানা বর্ষণের কারণে এখন দিশেহারা আমি।

October/patato

ধার-কর্য করে আলু আবাদ করে ফলন দেখে খুশি হলেও বৃষ্টি সব শেষ করে দিয়েছে। আমার বেশির ভাগ জমির আলু এখন পানির নিচে। কিভাবে কি করবো, বুঝতেই পারছি না। রোববার সকালে বৃষ্টি না হওয়াতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু পানিতে ভেজা আলু বেশি দিন স্থায়ী হয় না। কোল্ড স্টোরেজে বেশি রাখা যায় না।

মুন্সিগঞ্জ সদরের মহাখালী ইউনিয়নের বাগেশ্বর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. নাদিম হাওলাদার জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়া জন্য পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা করেছি। তবে অসময়ে বৃষ্টির কারণে শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। আবার যারা আছে তারা মজুরি চাচ্ছে বেশি। নিজেরাই পানি ভর্তি জমি থেকে আলু উত্তোলন করছি।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘যেখানে শুকনা থেকে আলু উত্তোলন করার কথা, এখন মাছের মতো পানি থেকে আলু উত্তোলন করতে হচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, জেলায় এ বছর ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। বৃষ্টির আগ পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে। বাকি রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির আলু। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগের কারণে জেলার প্রায় ৯০ হেক্টর জমির আলু নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে জমি থেকে কৃষকরা খুব দ্রুত বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা করছে।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।