ব্যবসায়ীকে হত্যার জেরে ভাঙচুর-আগুন, পুরুষশূন্য নতুন মাদারীপুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০১:১৪ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬

মাদারীপুরে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডে প্রতিপক্ষের ৩০টি বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ঘটনায় এখন পুরো গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে একই গ্রামের হাসান মুন্সির বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে গত বছরের মার্চ মাসে আক্তার হাওলাদারের লোকজন সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর থেকে হাসান মুন্সি ও আক্তার হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ আরও চরম আকার ধারণ করে। প্রায় এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ লেগেই থাকে। এর জের ধরেই মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের চাচাতো ভাই ও তার সমর্থক আলমগীর হাওলাদারের কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ১০ মার্চ রাতে হাসান মুন্সির গ্রুপের প্রায় ৩০টি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেয়। এতে করে পুড়ে ছাই হয়ে ঘরবাড়ি। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রথমে হত্যাকাণ্ড পরে আগুনের এই পাল্টাপাল্টি দুটি ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাছাড়া হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে গ্রামের পুরুষরা গা ঢাকা দিয়েছে। এতে করেও গ্রামের শিশু ও নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে গ্রামবাসী জানান।

এদিকে বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বাস দেন দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নিহত আলমগীর হাওলাদারের বোন লাইজু আক্তার বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। আমাদের কেউ হাসান মুন্সির কোনো লোকজনের বসতঘরে আগুন, লুটপাট বা ভাঙচুর করেনি। তারা নিজেরাই আগুন ধরিয়ে আমাদের নামে অপবাদ দিচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হামুমন নেছা বলেন, আমার ছেলে বিদেশে থাকে। কোনো দল করে না। অথচ রাতে এসে আমাদের বসতঘর ভাঙচুর-লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমি এর বিচার চাই।

ক্ষতিগ্রস্ত ডালিয়া আক্তার বলেন, আমাদের ঘরে কিছুই নেই। সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। শুধু আমাদের শরীরের এই কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে আমরা মুক্তি চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা জেমসিন বেগম বলেন, গতকাল থেকেই আমাদের গ্রামে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। তারা হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে গ্রামে আসতে সাহস পাচ্ছেন। এতে করে আমরা নারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এই সংঘর্ষের সমাধান না হলে আমরা কিছুতেই শান্তিতে থাকতে পারছি না।

ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ আর কোনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

আলমগীর হাওলাদার হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় ৮৬ জনের নামে মামলা করা হয়। পুলিশ এই মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মাদারীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।