মামলার তদন্তে গিয়ে পুলিশের কাণ্ড!
বিনা দোষে দুই নারীকে ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখলো পুলিশ। একই ঘটনায় সদর থানা পুলিশ ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ভুক্তভোগী ওই পরিবারের বাড়িতে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানায়, গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে মাদারীপুর সদর থানায় বিবাদমান একটি জমির তদন্ত কাজে যান সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহাতাব হোসেন।
এ সময় তিনি বিবাদমান জমির পাশের বাড়ির খালেক বেপারীর ছেলে পনির হোসেনের কাছে মামলা সংক্রান্ত বিষয় জানতে চান। তবে মামলা সর্ম্পকে পনির কিছু জানে না বলে জানান। এতে এসআই মাহাতাব ক্ষিপ্ত হয়ে পনিরকে থাপ্পড় দেন।
একপর্যায়ে পনির পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ায়। এতে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাহাতাব। পরে ফোন করে সদর থানা থেকে তিন গাড়ি পুলিশ নিয়ে পনিরের বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় পুলিশ। এ সময় পনির ও তার বড় ভাই-বোনের ঘরের জিনিসপত্র ও হাড়ি-পাতিল, থালা বাসনসহ রান্নার চুলা ভেঙে ফেলে পুলিশ।
পরে পনিরের স্ত্রী ঝুনু বেগম ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা বেগমকে সকাল ১১টার দিকে টেনেহেঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। তখন ঝুনু বেগমের তিন মাসের শিশু ও আকলিমার ১৮ মাসের শিশুকে কোল থেকে রেখে যেতে বাধ্য করে পুলিশ।
পরে রাত ১২টার দিকে মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এই ঘটনায় দুধের শিশুদের বাড়িতে রেখে ১৩ ঘণ্টায় থানায় আটকে ছিলেন দুই মা।
এ ব্যাপারে আকলিমা বলেন, আমাকে পুরুষ পুলিশ হাত ধরে হেটেহেঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আমার দুধের বাচ্চার কথা বললে পুলিশ ‘বাজে’ ভাষায় গালাগালি করে। সেই সঙ্গে মাদক ও হত্যা মামলায় চালান করে দেয়ার ভয় দেখায়।
পনিরের বড় বোন হামিদা বেগম জানান, আমাদের বাড়িতে পুলিশ ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পুলিশের তাণ্ডবে আমার ঘরের আলমারিতে থাকা ৬০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়।
পনিরের মা আরেকজান বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিনা দোষে আমার ছেলেকে মারধর করেছে পুলিশ। আমাদের রান্না করার চুলাটাও ভেঙে ফেলেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহাতাব হোসেন বলেন, আমি ওই ঘটনার কিছুই জানি না। জেনে-শুনে নিউজ করবেন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা যদি অভিযোগ দেয় তাহলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিশুর মায়েদের আটকে রাখা ঠিক হয়নি। আমি বিষয়টির উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।
এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/এমএস