নওগাঁয় সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের তিন সদস্য আটক


প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৭

নওগাঁয় সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি ডেক্সটপ, ল্যাপটপ ও মডেম উদ্ধার করা হয়। সোমবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়ীয়া মহল্লার রেজাউল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম টুটুল (২৫), হাট-নওগাঁ সাহেবপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে সালেকুর রহমান মানিক (২৩) এবং কালীতলা মহল্লার আজিজার রহমানের ছেলে আকতারুজ্জামান অবুঝ (২২)।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশিদুল হক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
 
ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে বিকাশ অ্যাকউন্টের সূত্র ধরে নওগাঁ জেলা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়। এরপর রোববার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশিদুল হকের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়।

আরও জানা যায়, হ্যাকার চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল মেয়েদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে তাদের গোপন তথ্য চুরি করে জিম্মি করা। এরপর ৫০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে আদায় করা। এভাবে তারা ঢাকা ও সিলেট বিভাগ জেলাগুলোর নারীদের অসংখ্য আইডি হ্যাক করে জিম্মি করেছে। আর চতুর হ্যাকার সালেকুর রহমান মানিক তার মা পারুল বেগমের ভোটার আইডি ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকউন্ট খুলে এ টাকাগুলো আদায় করা হতো।

তবে তারা মুঠোফোনে কারো সঙ্গে কথা না বলে ম্যাসেজের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করতো। আর এ বিকাশ অ্যাকাউন্ট নাম্বারের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আতোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারজানা হোসেন, সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোরিকুল ইসলাম, পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, এসআই সোহেল রানা, এসআই মাহবুব আলম, এসআই সাজেদুর রহমান, এএসআই রোকনুজ্জামান প্রমুখ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশিদুল হক বলেন, সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে জিম্মি করে বিভিন্ন জনকে ব্ল্যাকমেইল করে। এরপর বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে বিকাশের মাধ্যমে আদায় করে।

তাদের ব্যবহৃত ডিভাইসসহ হাতেনাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। যেসব ভুক্তভোগী তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিছুটা হলেও এখন পরিত্রাণ পাবে। জনগণকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

আব্বাস আলী/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।