মেহেরপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ : আগেই গ্রেফতার করা হয় ৫ জনকে
মেহেরপুর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ ও আসাদুল ইসলাম হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন পুলিশের কাছে আটক আজিজুর।
মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, ঢাকা থেকে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৪ জনের সঙ্গে আজিজুরকেও আটক করে পুলিশ। আজিজুর আদালতে ১০ জনের নাম প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে সোমবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৪ জন নিহত হয়।
তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ গতকাল জানিয়েছিলেন, রাত আড়াইটার দিকে কিছু সন্ত্রাসীকে ধাওয়া করে পুলিশের একটি দল। নুরপুর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। এ সময় উভয়ের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ৪ সন্ত্রাসী।
ওসি জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় হাদি উজ্জামানের আদালতে তাকে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।
আদালতে হাজিরের পর দুপুর আড়াইটার দিকে আজিজুর ফৌজদারি ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।
এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১০ জনের নাম প্রকাশ করেন আজিজুর। বাকি ৫ আসামি এখনও বাইরে রয়েছে যাদের তিনজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়। এদের মধ্যে এ চক্রের মূল হোতা তিনজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরো তিনজন। যাদেরকে খুঁজছে পুলিশ। বাকিদের আটক করতে পারলে এ চক্রের সকল সদস্যকে আটক করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সোনাপুর, বলিয়ারপুর ও কাঁঠালপোতা এই তিন গ্রাম দামুড়হুদা, মুজিবনগর ও সদরথানার মিলনস্থল। ফলে সন্ত্রাসীরা খুব সহজে অপরাধ সংগঠিত করে পালিয়ে যেতে পারে। পাশেই রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাদ্দাম, সোহাগ, রমেশ ও কাননসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চাঁদাবাজী করে আসছে। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারছিল না।
এ চারজনের মধ্যে সাদ্দামের নামে দুটি, সোহাগের নামে দুটি ও কাননের নামে ৫টি বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। কিন্তু রমেশের নামে কোনো মামলা নেই।
এ চক্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে ভয় পায় সাধারণ মানুষ। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছিল তারা। বন্দুকযুদ্ধে ৪ জনের নিহত হওয়ার পর এলাকায় কিছুটা সস্তি ফিরেছে বলে দাবি করেন ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী।
তবে চক্রের সকল সদস্যকে আটক করতে পারলে এলাকায় চাঁদাবাজী, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ কমে আসবে। এছাড়াও এসব এলকায় অপরাধ কমাতে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানার সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার নুরপুর মোড়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ জন নিহত হন।
আসিফ ইকবাল/এফএ/আরআইপি