তালপাখা তৈরিতে ব্যস্ত বাগেরহাটের নারীরা
প্রচণ্ড গরমে একটু শীতল পরশ পেতে কার না ভালো লাগে। বিশেষ করে লোডশেডিং এর সময়। তাইতো লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় অসহ্য গরমের দিনে একটু স্বস্তি পেতে বিদ্যুৎ নির্ভরশীল এলাকার মানুষের কাছেও তালপাতার পাখার কদর বেড়ে চলেছে।
বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে হাতপাখা। আর এসব পাখা তৈরির কাজে যুক্ত থেকে অনেক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। গরমে হাতপাখার চাহিদা থাকার পাশাপাশি মজবুত ও আকর্ষণীয় হওয়ায় রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় এখন পৌঁচ্ছে যাচ্ছে বাগেরহাটের তালপাখা।
বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরির পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সময়ে তালপাতার হাতপাখা তৈরি করে আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। এ পেশায় জড়িত অধিকাংশই নারী।
উপজেলার চরডাকাতিয়া গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার বেশির ভাগ পরিবার পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখন তাদের একটুও দম ফেরানোর ফুরসত নেই। ওই গ্রামের স্মৃতি বালা (২৪), দুলালী বালা (২৫), কণা বালা (১৮) গীতা বালা (৩০) লতা বালা (৩৬) ফুলমালা বালাসহ (৫৫) প্রায় শতাধিক পরিবারের নারীরা রাত-দিন পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত।
বৈশাখ মাস জুড়েই বিভিন্ন অঞ্চলে বসে বৈশাখী মেলা। আর এ মেলাকে সামনে রেখেই তাদের কর্মব্যস্ততা। ওই গ্রামের পাখা তৈরির কারিগর হৃদয় রঞ্জন বালা। তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ কাজ করে আসছেন। এ পেশা লাভজনক হওয়ায় এলাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে পাখা। ব্যবসায়ীরা এসব পাখা পাইকারী মূল্যে কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যায়।
ডিজাইনের ওপর পাখার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত এখানে বাট পাখা, ভাঁজ পাখা ও ঘুলিল পাখাসহ তিন ধরনের ডিজাইনের পাখা তৈরি হয়ে থাকে। প্রতিটি পাখা ১৫টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এর মধ্যে ঘুলিল পাখা ও ভাঁজ পাখা দামের দিক থেকে বেশি কারণ এগুলো তৈরি করতে বেশি সময় লাগে। পাখা তৈরির জন্য বাঁশ, বেত, তালপাতা ও লাইলন সুতা ব্যবহার করা হয়। আর এগুলো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন রঙের ব্যবহার রয়েছে। একজন কারিগর প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি পাখা তৈরি করতে সক্ষম হন।
খুলনা, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, চট্রগ্রাম ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখানকার তৈরি পাখার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে পাখা বিক্রি থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় হয়। নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীদের জন্য এটি একটি বাড়তি আয়ের উৎস। পাখা তৈরি করে এ গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারের নারীরা সংসারের খরচ যোগানোর পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছে।
এসএস/এআরএস/পিআর