রোহিঙ্গাদের বর্ণনা শুনলেন মিয়ানমার প্রতিনিধি দল
জাতি সংঘ ও বিদেশি রাষ্ট্রদূত এবং আনান কমিশনের পর এবার পৈচাশিকতায় অভিযুক্ত মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং নিবিন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।
১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল রোববার বিকেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা ২০-২৫ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন।
মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কাছেও নিজ দেশে ফিরে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রোববার বেলা ১১টায় মিয়ানমার সরকারের পাঠানো প্রতিনিধিদল কক্সবাজার পৌঁছে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সঙ্গে সৌজন্যসাক্ষাৎ করেন।
সেখান থেকে বিকেল ৩টার দিকে তারা উখিয়ার বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা বস্তি ও কুতুপালং অনিবন্ধিত এবং রেজিস্টার্ড শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।
মিয়ানমারের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জ্যং মিন্ট পে। তদন্তকারী দলের ৫ সদস্য ত্যং তুই থেট, তুন মায়ার্ট, নিয়াট সোয়ে, থেট থেট ঝিন, নিয়ান নাই ম্যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন উখিয়া উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিগণ।

কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির নতুন টালের বাসিন্দা আবুল কালাম, নুর কামাল, আবু শামা, রহিমা খাতুনসহ কয়েকজন মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তারা বলেন, আমরা নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কর্তা ব্যক্তিরা আমাদের দেখতে এসেছেন। তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আজ রোববার আমাদের দেশ মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিরা আমাদের দেখতে আসায় আমরা আনন্দিত। তারা আমাদের গ্রাম ও সেখানকার অবস্থানকালীন সময়ের সম্পদের বর্ণনা শুনেছেন। আমরাও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর কয়েকটা লিষ্ট তাদের (প্রতিনিধিদলের) হাতে দিয়েছি।
রোহিঙ্গারা আরও বলেন, প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বলেছি-আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমাদের বাড়ি-ভিটে ফেরত দিয়ে নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া হলে আমরা দেশে ফিরে যাব। উখিয়ার ক্যাম্প থেকেই নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই আমরা।
সেখান থেকে বেরিয়ে প্রতিনিধিদল বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সোমবার সকালে প্রতিনিধিদল বালুখালী নতুন রোহিঙ্গা বস্তি ও টেকনাফের লেদা-নয়াপাড়া ও মুচনী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কীভাবে উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো যায় তার উপায় নিয়ে আলাপ করেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এছাড়া রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তারা। এমনকি মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কথাও স্বীকার করেছেন প্রতিনিধিদল।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সেদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে সীমান্ত পুলিশের ১২ সদস্য নিহত হয়। সেই হামলার জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের দায়ী করে আসছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। পরে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরপর থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে রোহিঙ্গাদের। এর মধ্যে নতুন করে ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদের সম্পর্কে তদন্ত করতেই মিয়ানমার সরকার একটি তদন্ত দল গঠন করে যারা রোববার কক্সবাজার এসে রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখছেন। তাদের আগে জাতি সংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজার আসেন।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম