কক্সবাজার সরকারি কর্মচারী আবাসন প্রকল্প উচ্ছেদের রায় বহাল


প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৭

কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের পূর্ব পাশে পাহাড়ের উপর গড়ে তোলা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্প আলোচিত ৫১ একরের প্লট বরাদ্দ অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন আদালত। সেই সঙ্গে বরাদ্দের ভিত্তিতে দখলে থাকাদের উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের দায়েরকৃত সিভিল রিভিউ পিটিশন খারিজ করে রোববার (১৯ মার্চ) হাইকোর্টের আগের নির্দেশ বহাল রেখেছেন।

জানা যায়, কক্সবাজারের কলাতলী এলাকায় ঝিলংজার ৮০০১ নম্বর দাগের মোট ১২৪ দশমিক ৩৫ একর এবং ৫১ একর বনভূমিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলতে বরাদ্দ দেয়া হয়।

ওই বরাদ্দ বাতিল, পাহাড় ও বনজ সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) পাহাড় কাটা বন্ধে ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন।

এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৮ জুন বরাদ্দ বাতিল, পাহাড়ের কোনো অংশ না কাটা, রক্ষিত বন এলাকায় সকল ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করা এবং বন ধ্বংস না করতে আদেশ দিয়ে রায় দেন।

Ekor

কিন্তু আদালতের রায় যথাযত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ১২ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলা করে পরিবেশ অধিদফতর।

পরবর্তীতে আদালত কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলে ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সময় প্রার্থনা করেন।

আদালত সময় মঞ্জুর করে তিন মাসের মধ্যে সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার অঙ্গীকার নামা নেন কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের কাছ থেকে।

সেই তিন মাসের জায়গায় এখন তিন বছর অতিক্রম হলেও আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) কবির সায়ীদ বলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়ার ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পটি অবৈধ হয়ে গেছে।

তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন রিভিউ খারিজের বিষয়টি জানেন না উল্লেখ করে বলেন, কাগজপত্র দেখে আদালতের নির্দেশনা পালনে ব্যবস্থা নেবেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, পরিচ্ছন্ন কক্সবাজার গড়তে কাজ শুরু করেছে কউক। এটি করতে অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদই প্রধান কাজ হিসেবে সামনে এসেছে। যদিও আদেশ কপিটি হাতে আসেনি এরপরও হাইকোর্টের আদেশটি কউকের কাজে সহায়ক হিসেবে কাজ দেবে।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।