সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথের মৃত্যুবার্ষিকী আজ


প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৫

সমাজের নবজাগরণ ও সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ১১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ঊনবিংশ শতাব্দীর কালজয়ী সাধক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল ছিলেন তিনি।

ইংরেজ নীলকর, জমিদার, পুলিশ ও শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে হাতে লেখা পত্রিকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিপীড়িত মানুষের পাশে। তার `গ্রামবার্তা প্রকাশিকা` গ্রামীণ-স্বার্থ সংরক্ষণে অল্পদিনেই অধিকারবঞ্চিত মানুষের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। কৃষক-তাঁতি-রায়ত-প্রজা ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণকর পত্রিকার ভূমিকা বাংলায় আজো দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। আদর্শ সাংবাদিকতা এবং গ্রামবাসীর সঙ্গে মিশে থাকা এ মুখপাত্রটি এখন শুধুই ইতিহাস।

প্রতি বছর তার জন্ম এবং মৃত্যুবার্ষিকী আসে। কিন্তু, কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ছাড়াই পার হয়। গ্রামীণ সাংবাদিকতা এবং দরিদ্র কৃষক ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের একমাত্র অবলম্বন কাঙাল হরিনাথের স্মৃতি বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে। দুই বংশধরের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে কাঙাল কুটিরের উন্নয়ন কাজও ঝুলে আছে। অথচ কাঙাল হরিনাথ মজুমদার ছিলেন একজন জীবন সংগ্রামী সাধক ও আলোকোজ্জ্বল মানুষ। ১৮৩৩ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হরিনাথ মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৯৬ সালে ১৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। অল্প বয়সেই তিনি পিতা-মাতাকে হারিয়েছিলেন। স্থানীয় ইংরেজি স্কুলে পড়ালেখা শুরু।

তবে অনাথ হয়ে পড়ায় আর্থিক দুর্গতিতে বেশিদূর এগোতে পারেননি। তার বিদ্যানুরাগ ছিল প্রবল। সমাজ-সচেতনতাও প্রখর। নিজ গ্রামে তিনি বন্ধুবান্ধবের সহায়তায় একটি ভার্নাকুলার স্কুল খুলেছিলেন ১৮৫৫ সালে। সেখানেই অবৈতনিক শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। পরের বছর তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

১৮৫৮ সালে এই বালিকা বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন করেছিলেন স্বয়ং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এ দেশে নারীদের শিক্ষার প্রসারেও হরিনাথের ভূমিকা ছিল মনে রাখার মতো। `কাঙাল` বলেই সবার কাছে পরিচিত ছিলেন হরিনাথ মজুমদার।

এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।