কুষ্টিয়ায় ১১ স্কুলছাত্রকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখলেন ওসি


প্রকাশিত: ০৯:৪৫ এএম, ২০ এপ্রিল ২০১৫

শিশু কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন থাকলেও তা মানছেন না কুষ্টিয়ার পুলিশ প্রশাসন। আইন ভঙ্গ করে জেলার শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ৮ম থেকে ৯ম শ্রেণির একদল ছাত্রকে বখাটেপনার অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় আটকে রাখেন ওসি।

রোববার বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীরা এ সংক্রান্ত চিত্র ধারণ করতে গেলে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, ওরা কোনো অপরাধী নয়।  কিন্তু, অন্যান্য অপরাধের দায়ে গ্রেফতারকৃতদের সাথে তাদের কাস্টডিতে কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বলেন, কাস্টডিতে কেন রাখা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে তিনি বাধ্য নন।


শহরের মজমপুর এলাকার বাসিন্দা ৯ম শ্রেণির ছাত্র অয়নের বাবা মুরাদ হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাচ্চা’কে স্কুলে পাঠিয়েছি। স্কুল চলাকালীন কিভাবে বখাটেপনা করল? আর কোন অপরাধেই বা বাচ্চাটা’কে দাগী আসামিদের সাথে কাস্টডিতে ভরে রাখল? 

৮ম শ্রেণির ছাত্র তানভিরের বাবা পুলিশ কাস্টডিতে ভরে রাখা নিজের ছেলেকে দেখে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ওসি সাহেব নিজেও বলছেন ওরা অপরাধী না, তাহলে কি কারণে এই কোমলমতি বাচ্চাদের সারাদিন ধরে কাস্টডিতে আটকে রাখলেন?

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিমি জানান, ওই বাচ্চাদের তো কাস্টডিতে রাখার কথা নয়। কেন এদের কাস্টডিতে রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক খন্দকার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, স্কুল চলাকালীন কম্পাউন্ড থেকে ১১ জন ছাত্রকে পুলিশ আটক করেছে তা তিনি জানেন না। তাদের পুলিশ কাস্টডিতে রাখা হয়েছে সেটাও তাকে জানানো হয়নি।

কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান জানান, স্কুলে বাচ্চাদের অন্যান্য চিহ্নিত অপরাধীদের সাথে পুলিশ কাস্টডিতে আটক করা হয়ে থাকলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অভিভাবকদের উপর অবশ্যই দায় বর্তায়। এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখ জনক।

কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবাইদুর রহমান জানান, ওই সব ছেলেদের আটক করার সময় সেখানে স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের বলা হয়েছিল থানা থেকে বাচ্চাদের নিয়ে আসতে।

কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সভাপতি জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, স্কুলগামী বাচ্চাদের আটক করে কাস্টডিতে রেখে আইনের ব্যত্যয় ঘটে থাকলে বিষয়টি দেখা হবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সামস তানিন জানান, জাতিসংঘ শিশু সনদ ১৯৭৪ সালের শিশু আইন সংশোধনী ২০১৩ এর ২৯ ধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে, আইনের সংজ্ঞানুযায়ী শিশু-কিশোর বলতে যাদের বোঝাবে তাদের প্রয়োজনে সংশোধন কেন্দ্র বা সেভ কাস্টডি ব্যতিরেকে কোনো ভাবেই পুলিশ কাস্টডি বা কারাগারে রাখা যাবে না।

এসএস/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।