বৈসাবি ঘিরে উৎসবমুখর খাগড়াছড়ি


প্রকাশিত: ০২:৪৩ এএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৭

ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ আর চাকমাদের ‘বিজু’ এ তিনের আদ্যক্ষর নিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বৈসাবির রঙে নিজেদের রাঙাবে পাহাড়ের মানুষ। বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে কোথাও প্রস্তুতির যেন কমতি নেই। বৈসাবি উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আরো দিন কয়েক বাকি থাকলেও এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়ে গেছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা। বৈসু-সাংগ্রাই-বিঝু বা বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ি।

আগামী ১২ এপ্রিল ভোরে সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়ে চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে কোথাও কোথাও এ উৎসব চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত। অন্যান্য বছরের ন্যায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ঘরে ঘরেও বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকবে বৈসাবি উৎসবের। নিত্যদিনের অভাবকে দূরে ঠেলে সবাই মেতে উঠবে প্রাণের উৎসবে। পাহাড়ের দরিদ্রপল্লীগুলোতে বর্ণিল আয়োজন ছাপিয়ে যাবে সব বিবর্ণতাকে।

আগামী ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শুরু হবে উৎসবের সূচনা। এ বিজুর সঙ্গে রয়েছে চাকমাদের ধর্মীয় অনুভূতির সম্পর্ক। শেষ দুই দিন মূল বিজু এবং গজ্জাপজ্জা। উৎসবের প্রথম দিন সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীতে ফুল ভাসিয়ে মঙ্গল কামনা করবে তরুণ তরুণীরা।

আর ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ বাংলা নববর্ষের আগের দিন ‘হারি বৈসু’র মধ্য দিয়ে শুরু হবে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের তিন দিনের উৎসব। উৎসবের দ্বিতীয় দিন ‘বৈসু’ ও শেষ দিন বিশিল কাতাল উদযাপিত হবে।

khagracory

মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের মধ্যে উদযাপিত হয় সাংগ্রাই, আক্যে, আটাদা ও আতং। চার দিনই বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, অতিথি আপ্যায়নের সঙ্গে থাকে বিশেষ পাঁচন রান্নাসহ নানা আয়োজন।

ইতোমধ্যে গ্রাম থেকে গ্রামে পুরোদমে চলছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নানা খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি। এ উৎসবকে ঘিরে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের আনন্দ র্যালি, মারমাদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াটার ফেস্টিবল বা পানি উৎসব এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গড়িয়া নৃত্যের আয়োজন থাকবে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের বাইরেও স্থানীয় পাহাড়িরা নিজেদের মতো করে বৈসাবি উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবারের ন্যায় এবছরও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মিলিতভাবে বৈসাবি উদযাপন করবে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটও পাহাড়ে ভিন্ন আমেজের সঙ্গে নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতি নিয়েছে।

বৈসাবীকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জেলা ও উপজেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে বেচাকেনার ধুম পড়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-বয়সের নারী-পুরুষ পাঁচন, শুটকি এবং নতুন কাপড় কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দোকানগুলোতে। আর বৈসাবি উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে ছোটবড় দোকানিদেরও। বৈসাবি উৎসব ও বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে বিপণি বিতানগুলোতে এখন পাহাড়িদের পাশাপাশি বাঙালি তরুণীদেরও উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

khagracory

সকল সম্প্রদায়ের নাগরিকদের আগাম বৈসাবি শুভেচ্ছা জানিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, বৈসাবির উৎসব ছড়িয়ে দিতে যা যা প্রয়োজন সবকিছু করা হবে।

বৈসাবি পাহাড়ের প্রতিটি নাগরিককে এক সুতোয় গেঁথে দেবে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, এ উৎসবে পাহাড়ি-বাঙালি সকলে একাকার হয়ে উৎসব পালন করবে।

১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন সম্মিলিত উদ্যোগে ‘বৈসাবি’ নামে এ উৎসব পালন করে আসছে। সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ‘বৈসাবি’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নামে ‘ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু, মারমা ভাষায় সাংগ্রাই এবং চাকমা ভাষায় বিজু’ নামে এ উৎসবটি পালন হয়ে থাকে।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।